ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনরাজনীতি

মামুনুল হকের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং সংশোধনসহ ১৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালন অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। ইশতেহারে উল্লেখিত ১৩টি দফা হলো-
১. দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা-১৩: ভূমি, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-নিবন্ধনসহ সব সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে দালাল চক্রকে উচ্ছেদ করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট, ঠিকাদার ও অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশের মাধ্যমে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
২. সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং সংশোধন: সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসন করা হবে। কিশোর গ্যাং সংশোধনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশোধন না হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
৩. নিরাপদ জনপথ ও আইনশৃঙ্খলা জোরদার: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি, পর্যাপ্ত সড়কবাতি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। বাজার, টার্মিনাল ও অফিসে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে।
৪. যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা: অসমাপ্ত সড়ক কাজ দ্রুত সমাপ্তি, ফুটপাত দখলমুক্ত করণ, অবৈধ নির্মাণসামগ্রী অপসারণ ও সড়ক দ্বীপে সবুজায়ন করা হবে। বেড়িবাঁধে এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ ও মেট্রোরেল সুবিধা সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৫. জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষা: রামচন্দ্রপুর খালসহ সব খাল অবমুক্ত করে সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে। আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
৬. ব্যবসা-বান্ধব (ঢাকা-১৩): ‘এক ছাতার নিচে সব সেবা’ নীতিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হবে। স্থানীয় শিল্প, ক্ষুদ্র কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
৭. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন ও আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। কারিগরি ও ভোকেশনাল ট্রেনিং জোরদার, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হবে। বেদখল মাঠ পুনরুদ্ধার করা হবে।
৮. গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের টেকসই সমাধান: সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্নীতি দূর করে ন্যায্য-বণ্টন নিশ্চিত করা হবে। ঢাকার অন্যান্য এলাকার সঙ্গে তুলনা করে বিতরণ ব্যবস্থায় বৈষম্য রোধ করে সেবা দেওয়া হবে।
৯. স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ: সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসন ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে। টিসিবি ও ভাতা বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করা হবে। জেনেভা ক্যাম্প ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসন করা হবে।
১০. ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি: সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হবে। ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক অবক্ষয় রোধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১১. সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নাগরিক স্বাধীনতা: নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। স্বাধীনতা, বিজয় ও ভাষা দিবসসহ সব রাষ্ট্রীয় দিবস মর্যাদাপূর্ণ ও সার্বজনীন অংশগ্রহণে উদযাপিত হবে।
১২. নারীর অধিকার ও শিশুর বিকাশ: নারী নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও হটলাইন চালু করা হবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শিশুশ্রম বন্ধ ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পতিতা ও হিজড়াদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন করা হবে।
১৩. শহীদ ও বীরদের সম্মান এবং জবাবদিহির রাজনীতি: মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই-যোদ্ধা ও শাপলার শহীদদের সম্মান, ভাতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা হবে। নিয়মিত জনতার সঙ্গে ডায়ালগ, উন্মুক্ত মত-বিনিময় ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!