জাতীয়

ভারতে গ্রেপ্তার হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরাতে সরকার কাজ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গত শনিবার রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আসামি হস্তান্তর বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক যে চুক্তি রয়েছে, সেই চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত তাদের ফেরত আনা যাবে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ঘটনাকে মব দাবি করা ভুল। অনেকেই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে মব বলছে। তবে মবকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিচ্ছে না সরকার, মব বন্ধে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, সারাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রমজান মাসের পরপরই এই অভিযান শুরু করবে সরকার। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, সংঘবদ্ধ কোনো ক্রিমিনাল আইনের বাইরে থাকবে না। এটা এ সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনগণের প্রত্যাশা। অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেও যাতে দেশের মানুষ স্বস্তিতে থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে আমরা জনগণের জন্য স্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে আসতে পারি, আমরা সারাদেশে যাতে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন বজায় রাখতে পারি, সেজন্য আমাদের কর্মকাণ্ড চালু থাকবে এবং এ বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা ও ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। সমুদ্র সৈকতকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এই সৈকতকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তাই এখানে কোনো ধরনের ঝুপড়ি, পলিথিন দোকান থাকতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বর্তমান সরকার। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে এবং একই সঙ্গে সারাদেশে অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। আইনশৃঙ্খলা সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার শহর, প্রধান সড়ক-উপসড়ক যানজটমুক্ত করা, হোটেল-মোটেল জোনে চাঁদাবাজ ও দখলমুক্ত করা, জ্বালানি তেলের ব্যাপারে প্রশাসনের আন্তরিকতা বৃদ্ধি, টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন, মাদকের মামলা পরিচালনা ও তদন্ত গুরুত্বসহকারে করা, নাফ নদীতে মাছ ধরার বিষয়টি টেকনাফে স্থানীয় এমপির সঙ্গে বসে সমাধান করা। এ ছাড়া অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ কমিটি গঠন করা, চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে নির্মূল করা, শরণার্থী শিবিরে মাদক বহনকারীদের নির্মূল, শহরের নুনিয়াছড়ায় অধিগ্রহণকৃত জমি কোস্টগার্ড, এমপি, ডিসি ও সবার সঙ্গে বসে সমাধান করা, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি, কক্সবাজার পৌর শহরে আর কোনো টমটমের লাইসেন্স দেওয়া না হয় এবং অতিদ্রুত সময়ে শহরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এবং পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ কমিটির সদস্যরা।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!