আন্তর্জাতিক

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে উদ্ধার হওয়া নারীর মৃত্যু, জীবিতদের উদ্ধারের আশা ক্ষীণ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩৭ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হওয়া এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার তার পরিবারের সদস্যরা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অন্যদের জীবিত উদ্ধারের আশাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। গত সোমবারের ভয়াবহ ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ৩২ বছর বয়সী ড্যানিয়েলা লার্গোকে মঙ্গলবার পেরেইরা শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে জীবিত উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগের মধ্যে তিনি তখন পুরো দেশের জন্য আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তবে গত শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় লার্গোর মৃত্যু হয়। তিনি ১২ বছর বয়সী এক ছেলে রেখে গেছেন। লার্গোর মা সান্দ্রা মিলেনা পেরেজ এএফপিকে বলেন, ‘আমি শুধু চাই, এই দুঃসহ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হোক।’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারের ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯৪ জন নিহত এবং প্রায় ৪ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখনও অন্তত ৩২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধসে পড়া ছাদ ও দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পেরেইরার বাসিন্দারা এখনও অলৌকিকভাবে কেউ জীবিত উদ্ধারের আশা করছেন। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, সেই আশা ততই ফিকে হয়ে আসছে। ৫৫ বছর বয়সী রেস্তোরাঁর ডেলিভারি কর্মী ফার্নান্দো গাইতান বলেন, ‘যদি কেউ জীবিত থাকে, তাহলে সেটা সত্যিই অলৌকিক ঘটনা হবে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ জীবিত আছে বলে আমার মনে হয় না।’ উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের বড় বড় অংশ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। টানা কয়েক দিনের কঠোর পরিশ্রমে তাদের অনেকেই শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের করপোরাল হাভিয়ের হিমেনেজ বলেন, ‘শেষ ব্যক্তিটিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত আমরা এখানে থাকব।’ এদিকে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে কলম্বিয়া সরকার। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা গত ৭ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দে লা এসপ্রিয়েলারকে সমর্থন করেছিলেন। গত শনিবার দে লা এসপ্রিয়েলা জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রায় ১০ মিনিটের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ ফোনালাপ হয়েছে। এ সময় তিনি ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিতের অনুরোধ জানান। জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করে। তবে কফি ও তেলের মতো কিছু পণ্য এই শুল্কের বাইরে রয়েছে। দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলে ভূমিকম্পের প্রভাবে কঠিন সময় পার করা ব্যবসায়ীদের জন্য তা সহায়ক হবে। ভূমিকম্প মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার সহায়তা এবং দেশটির উদ্ধারকারী দলের সহযোগিতার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য ইসরাইলকেও ধন্যবাদ জানান। ভূমিকম্পে ১৪ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধসে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ক্যালি, পেরেইরা ও মানিজালেস শহর পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!