ফ্রান্সে প্রধান শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা

ফ্রান্সে এক প্রধান শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়েছে সহিংস বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া তারা অন্তত দুটি স্কুলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কর্মীর অভাব ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের সহিংস বিক্ষোভের মধ্যেই গত বৃহস্পতি হামলাকারীরা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সকালে মার্সেইয়ের সাঁ-এক্সুপেরি হাই স্কুলে আগুন নেভাতে আসা একটি দমকলের গাড়িকে শত শত তরুণ ঘিরে ফেলে। হামলাকারীরা দমকলকর্মীদের গাড়িটি ফেলে পালাতে বাধ্য করে এবং এরপর সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই একই শহরের ভিক্টর হুগো হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নঁতের একটি স্কুলেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি সরকারের জন্য এক স্পর্শকাতর মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকার গত বৃহস্পতি তাদের ২০২৭ সালের বাজেটে ব্যয় সংকোচনের এমন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে যা অত্যন্ত অজনপ্রিয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিক্ষোভের জেরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে গত বৃহস্পতি বিকেলে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকর্নুর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এসব বিক্ষোভে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কিশোর-কিশোরী বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্যারিসের শহরতলি সাঁ-দেনিতে পুলিশের একটি সারির সামনে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী সমবেত হয়েছিল। এক শিক্ষার্থী এমন একটি প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেছিল যাতে লেখা ছিল: “টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাসের মুখে না পড়েই কি আমরা নিজেদের কথা তুলে ধরতে পারি না?” শিক্ষার্থীরা পুলিশের বিরুদ্ধে টিয়ার গ্যাসসহ কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের অভিযোগ তুলেছে। সরকার কিছু বিক্ষোভের সময় ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার সমালোচনা করলেও স্বীকার করেছে যে, হাই স্কুলগুলোর সমস্যাগুলো আমলে নেওয়া এবং সেগুলোর সমাধান করা প্রয়োজন।




