প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

অঞ্জলি, আরতি আর পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। বিদায় নেন মা দুর্গা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছয় দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। শেষ দিন দশমী পূজায় প্রতিমার হাতে জরা, পান, শাপলা ডালা দিয়ে আরাধনা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। এর আগে মহানবমীর সন্ধ্যায় আরতি শেষে দেবীর বন্দনায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিষাদের সুর বাজতে শুরু করে। দুর্গতি নাশিনী মহিষাসুর মর্দিনীর আরাধনা শেষ হলে কৈলাশে স্বামীগৃহে ফেরেন মা দুর্গা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর জানান, বছরান্তে দেবী দুর্গার আগমনে দেশের প্রতিটি মন্দিরে বিরাজ করে আনন্দ আর উদ্দীপনাময় এক পরিবেশ। মন্দিরে মন্দিরে বেজে ওঠা ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা আর শঙ্খধ্বনিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে আবহমান বাংলা। উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নৈসর্গিক নির্জনতা। মন্দিরে মন্দিরে মন্ত্র উচ্চারণ আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিশ্বের অশুভ শক্তিকে তাড়িয়ে কল্যাণ কামনা করা হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় গতকাল বুধবার প্রতিমা বিসর্জন হয়। বিসর্জনের আগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হয়, যা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সদরঘাটে গিয়ে শেষ হয়। বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানান। দুর্গোৎসব উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবারও সাধারণ ছুটি। সব মিলিয়ে এবার পূজায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছেন। মহালয়ার মধ্য দিয়ে গত ১০ অক্টোবর এবারের দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছিল। ওই দিন থেকেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়। এরপর গত শুক্রবার মহাষষ্ঠী থেকে ছয় দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল, গতকাল বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শেষ হয়। এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় আর ঢাকা মহানগরে পূজামণ্ডপের সংখ্যা ছিল ২৫৮টি।




