ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনপ্রধান খবররাজনীতি

নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ চায় এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে ব্যবহার করে প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দল কিংস পার্টির মতো আচরণ করছে। তবে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তার দায় শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়, তা ইউনূস সরকারের ওপরও বর্তাবে। নির্বাচন কমিশন দায়সারা নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখে প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচন করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে বিএনপি মুনাফিকি করছে।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপি-র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ এবং তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে মনিরা শারমিন বলেন, তারেক রহমান এক জনসভায় ঘোষণা করেছেন যে বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। কাকতালীয়ভাবে আমরা গণমাধ্যমের মারফতে জানতে পারলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যাংকগুলোর কাছে ঠিক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের তথ্য চেয়ে ব্যক্তিগত চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন। তিনি একে নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। এনসিপি নেত্রী অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের যেখানে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে তারা এবং পুলিশ প্রশাসন একটি বিশেষ দলের হয়ে কাজ করছে। এমনকি মিডিয়ার একটি অংশও নগ্নভাবে সেই দলকে সমর্থন দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিং সহ্য করা হবে না জানিয়ে মনিরা শারমিন বলেন, এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোট পরিস্থিতি অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আমরা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে দ্বিধা করবো না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!