আন্তর্জাতিক

নির্বাচনে ভরাডুবির পর তিন মুখপাত্রকে বহিষ্কার করল মমতার দল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিজেপি। ইতোমধ্যেই নতুন সরকারও গঠন করেছে তারা। অন্যদিকে নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসে চলছে শুদ্ধি অভিযান। মূলত দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তিন মুখপাত্রকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলীয় নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনার জেরে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলবিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের তিন মুখপাত্রকে ছয় বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছে দলটি। গত শনিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মুখপাত্র কোহিনূর মজুমদার, রিজু দত্ত ও কার্তিক ঘোষকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর কয়েকদিন আগেই দলীয় নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার অভিযোগে পাঁচ মুখপাত্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল তৃণমূল। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পায়। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেমে আসে ৮০ আসনে। পরে দলের শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও তৃণমূলের সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ওই নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। বরখাস্ত হওয়া তিনজন ছাড়াও কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী ও পাপিয়া ঘোষকেও নোটিশ দেয়া হয়েছিল। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। দলীয় নেতাদের দাবি, নির্বাচনে পরাজয়ের পর কয়েকজন মুখপাত্র প্রকাশ্যে নেতৃত্বের কার্যক্রম ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করা হয়েছিল’। বরখাস্ত হওয়া কোহিনূর মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে অনেক সময় নেতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। মালদহের জ্যেষ্ঠ নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীও ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের ধরন নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা দমনে বিজেপি সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে আলোচনায় আসেন রিজু দত্ত। তবে এ বিষয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং শৃঙ্খলা কমিটির আরেক সদস্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!