জাতীয়প্রধান খবর

নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী

সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই নিজের সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এসএসএফকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাধারণ জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ম্যান্ডেট পেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বর্তমান সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে হয়তো দক্ষতা এবং নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রায়শই জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা- এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন ও মৃত্যুর পর এসএসএফের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মরহুমা খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য আমি আমার ও পরিবারের পক্ষ থেকে এসএসএফকে ধন্যবাদ জানাই। বর্তমান সময়ের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। এসব মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। সাহস, দক্ষতা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। অনুষ্ঠানে এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং উদ্বোধনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই ফায়ারিং রেঞ্জ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ২০০২ সালের পর এসএসএফের নির্দেশনামূলক ‘রেড বুক’ সংস্কার করে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। নির্দেশনার পাশাপাশি সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তাদের নিয়ে এসএসএফ গঠিত। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় যত বেশি নিখুঁত হবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত সুচারু হবে। সবশেষে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ও দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তারেক রহমান।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!