সারাদেশ

নাটোরে পুলিশের বাধায় পণ্ড জিন্দা কবরে থাকা

নাটোরের লালপুরে আধ্যাত্মিক সাধনার নামে স্ত্রীসহ আড়াই দিন ‘জিন্দা কবরে’ থাকার ঘোষণা দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন লালন ভক্ত খালেক ফকির ওরফে খালেক ডাকাত নামে এক ব্যক্তি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো উৎসুক জনতা ও ভক্তদের সমাগম ঘটে। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। গতকাল শুক্রবার সকালে লালপুর উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। খালেক ফকির ওই এলাকায় সিদ্ধি খালেক বাবা নামেও এলাকায় পরিচিত। তিনি একই এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে। জয় কৃষ্ণপুর গ্রামে আগে থেকেই পীরের মাজার নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই মাজারের পাশেই খালেক ফকিরের বাড়ি। এলাকাবাসীর দাবি, অনেক আগে খালেক এলাকায় চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল- এমন কথা প্রচলিত থাকায় তাকে ডাকাত খালেক নামেই লোকে চিনতো। এরপর সে গাঁজা ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত হয়। সম্প্রতি ওই মাজারের খাদেম মারা যাওয়ার পর থেকে সে মাজারের দেখাশোনা করে। প্রায়ই অনুসারীদের নিয়ে সিদ্ধি আসর নামে গাঁজা সেবন করে। এর পাশাপাশি সে নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক হিসাবেও পরিচয় দেয়। কয়েকদিন আগে তিনি ঘোষণা করে, আধ্যাত্মিক সাধনা বলে সে তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আড়াই দিন কবরে থাকবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নারী ও পুরুষের দাবি, ওই ঘোষণার অংশ হিসাবে বুধবার থেকেই তার অনুসারীরা মাজারে আসতে থাকে। তাদেরকে তিনি এক মণ দুধ দিয়ে রান্না করা পায়েস ছাড়াও মাছ-ভাত খাওয়ায়। এরপর দেড় মণ দুধ দিয়ে গোসল করে কাফনের কাপড় পরে। গত বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী-স্ত্রী নতুন তৈরি করা একটি কবরে প্রবেশ করে আড়াই দিন থাকার কথা। কিন্তু খবরটা প্রকাশ হয়ে গেলে এলাকার উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে এসব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও খনন করা কোনো কবর তারা পাননি। স্থানীয় জনতা আর ওই ফকিরের সঙ্গে কথা বলে কবর খনন বা কবরে থাকতে নিষেধ করে তারা থানায় ফেরেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওই ফকির মূলত লালন ভক্ত। অন্য লালন অনুসারীদের মতই তার কাজ। বিষয়টির ঘিরে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে তারা তৎপর রয়েছেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!