দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান সেতু উল্টে পানিতে ডুবে দুই পরিবারের ভাই-বোনসহ ৫ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ভাসমান সেতুতে ঈদে ঘুরতে আসা মানুষের প্রচন্ড চাপে সেতু উল্টে পানিতে ডুবে দুই পরিবারের সহোদর ভাই-বোনসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকালে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ঝালুরচর এলাকার শের আলীর মেয়ে খাদিজা (১২) ও আব্দুল মোতালেব (৬) এবং একই উপজেলার ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে রিফাত (১৬) ও মেয়ে মায়ামনি (১০) , গামারিয়া এলাকার আবির (১৬)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান সেতু দিয়ে ওপর প্রান্তে চরে যাতায়াত ও বিনোদনের ব্যবস্থা করে পৌর কতৃপক্ষ। শনিবার ঈদের দিন হওয়ায় ঘুরতে আসা মানুষের প্রচন্ড ভিড় জমে ভাসমান সেতুর উপর। বিকালে মানুষের প্রচন্ড চাপে ভাসমান সেতুটি উল্টে মাঝখান ভেঙে মানুষজন পানিতে পড়ে যায়। এ সময় বেশিভাগ মানুষ সাঁতরে পাড়ে উঠে আসতে পারলেও বেশ কয়েকজন পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বিকাল থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালায়।

এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল রাত ৯টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে সঞ্জাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজা, আব্দুল মোতালেব, রিফাত, মায়ামনি এবং আবিরকে মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে সেতু ভেঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, দেওয়ানগঞ্জে সেতু ভেঙ্গে অনেকগুলো মানুষ নিখোঁজ রয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে জামালপুর থেকে ডুুবুরি দল নিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং রাতে অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও মানবিক কারনে আমরা অভিযান চালিয়ে ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।




