সারাদেশজাতীয়প্রধান খবরভিডিও

দফায় দফায় হট্টগোল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতি

অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগে ভিসি-প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ তুলে ভিসি-প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। এ সময় প্রো-ভিসি বিশ^বিদ্যালয়ে এসে তার লোকদিয়ে তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে। এ নিয়ে দফায় দফায় হট্টগোল এবং প্রো-ভিসির উপস্থিতিতেই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ডিপিপির নামে দুর্নীতি ও কালক্ষেপন, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য সৃষ্টি, তড়িঘরি করে সিন্ডিকেট করাহ একাধিক অভিযোগে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: রোকনুজ্জামান এবং প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের পদত্যাগ দাবিতে রবিবার বিশ^বিদ্যালয়ের ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুপুরে প্রো-ভিসি বিশ^বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে ফটকে তালা দেখতে পান, পরে তার নির্দেশে তার অনুসারীরা তালা ভেঙ্গে বিশ^বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে।

এ সময় প্রতিবাদকারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কমচারীরা দুর্নীতি বিরোধী স্লোগান দিয়ে ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগ দাবি করেন। এদিকে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সাথে একাত্বতা নেই জানিয়ে ছাত্র শিবিরের বিশ^বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদের নেত্বেতে আন্দোলনকারীদের ব্যানার ছিড়ে ফেলে দেয়। এসব ঘটনা নিয়ে দিনব্যাপী দফায় দফায় বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হট্টগোল হয় এবং মাষ্টার্সের সেমিষ্টার পরিক্ষীয় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি।

এসব বিষয় নিয়ে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আলোচনায় বসেন। আলোচনা চলাকালেই এক পর্যায়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে হট্টোগোল এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে কোন সুরাহা করতে না পেরে আলোচনা অসম্পন্ন রেখেই প্রো-ভিসি বেরিয়ে যান।

আন্দোলনকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ৫ আগষ্ট এর পরে শহীদের রক্তের উপর দিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। ডিপিপির নামে কালক্ষেপন হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থ অপচয় হয়েছে এবং বিশ^বিদ্যালয়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের ছত্রছায়ার নিয়োগ বাণিজ্য অব্যহত আছে। প্রশাসন চুক্তিভিত্তিক সকল নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এবং প্রক্টর সাদিকুর রহমান, প্রভোস্ট ফরহাদ আলী ও মৌসুমী আক্তার, মাহবুব আলম জনসংযোগ কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্টার আহসান হাবিব, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। স্বজন প্রীতির মাধ্যমে ভিসির সহযোগিতায় প্রো-ভিসির লোকদেরকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। পরে আন্দোলনকারীরা বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের জমিদাতাদের নিয়ে মতবিনিময় করেছি এবং বলেছি ডিপিপি পাশ হলে জমিদাতের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকুরীতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। আর বিশ^দ্যিালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি এবং ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা কোন আপোষ করবোনা। পিয়ন, সিকোরটিগার্ড নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় হলে ভালো হয়, কারন বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে তাদের দিয়ে অভারটাইম করানো যায়, যেটি বহিরাগত স্টাফ দিয়ে হয়না। তবে আমরা এই ধরনের নিয়োগ এখনো দেয়নি।

এর মধ্যে শুধু দুইজন কর্মকর্তার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়েছে, সেটি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও পিএস টু ভিসি এবং সহকারী পরিচালক হিসাব পদে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেয়া হয়েছে, সেখানে আমার বা ভিসির একক এখতিয়ার নেই।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!