দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ১, অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত

দক্ষিণ লেবাননে গত মঙ্গলবার ইসরাইলের পরপর দুটি হামলায় একজন নিহত এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের ওপর ‘অব্যাহত হামলার’ নিন্দা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ বিরতির মধ্যেও এটি ইসরাইলের সর্বশেষ হামলার ঘটনা। বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহতে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এতে দু’জন আহত হয়েছে। পরে এনএনএ জানায়, আহতদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হিজবুল্লাহ-সমর্থিত আমাল আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আবারও হামলা চালায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘উদ্ধারকারী দলের ওপর শত্রুপক্ষের অব্যাহত হামলার নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করছে মন্ত্রণালয়। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং সব আন্তর্জাতিক রীতিনীতির অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন।’ এদিকে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানায়, নাবাতিয়েহ এলাকাতেই ঝোপঝাড়ে লাগা আগুন নেভানোর চেষ্টা করার সময় ড্রোন হামলায় তাদের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। তবে হামলার কারণে তাদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয়। ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ মার্চে ইসরাইলে রকেট হামলা চালিয়ে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। ইরানের সমর্থনে ওই হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের হিসাবে, এসব হামলায় ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং এর কয়েক দিন পর লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি হওয়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে বৈরুত এখনও ইসরাইলের বিচ্ছিন্ন হামলা ও স্থাপনা ধ্বংসের খবর দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার আরও জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত একটি বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইল-লেবানন চুক্তিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ওই অঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুটি ‘পাইলট জোনে’ এসব কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। হিজবুল্লাহ চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অস্ত্র ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।




