জাতীয়সারাদেশ

চোরাচালান দমনে কোস্টগার্ডের অর্জন বাজেটের ১৫ গুণ: কোস্টগার্ডের ডিজি

কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেছেন, ২০২৫ সালে শুধু চোরাচালান ও মৎস্য সম্পদ রক্ষা অভিযানের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অর্জন প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। যার অর্থমূল্য বিবেচনায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জন্য বরাদ্দ বাজেটের প্রায় ১৫ গুণ বেশি। রাজধানীর আগারগাঁও কোস্টগার্ডে সদর দপ্তরে আয়োজিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ কোস্টগার্ড শুধু অবৈধ দ্রব্য আটকের মাধ্যমে এ বাহিনীর জন্য সরকার কর্তৃক বিনিয়োগকৃত অর্থের বহুগুণ বেশি প্রতিদান দিতে সক্ষম হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বাজেট, জনবল ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড একটি অনন্য বাহিনী হিসেবে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে সুখ্যাতি লাভ করেছে। তিনি বলেন, কোস্টগার্ড সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, পরিবেশগত বিধিবিধান প্রয়োগ এবং সমুদ্রের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের সুনীল অর্থনীতির বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করে যাচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা, সামুদ্রিক দূষণ প্রতিরোধ এবং সামুদ্রিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে, আমরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখছি। গত বছরের ১৮ আগস্ট মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জাতীয় মৎস্য পদক অর্জন করেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বহিঃনোঙর এলাকায় গত ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর অয়েল ট্যাংকার ‘বাংলার সৌরভে’ অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে কোস্টগার্ডের প্রদর্শিত সাহস ও দৃঢ়তার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা (আইএমও) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক বিসিজি টাগ প্রমত্ত তথা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক আরও বলেন, কোস্ট গার্ড ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজনে অন্যান্য সকল বাহিনীর পাশাপাশি ২০টি উপজেলায় নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছে। কোস্ট গার্ড এ প্রেক্ষিতে ৩ হাজার ৫৮৫ জনবল, ৫টি জাহাজ, প্রায় দেড় শতাধিক বোট, ২০টি ড্রোন, ১০০টি বডিওর্ন ক্যামেরা, ৩টি ভি-স্যাট কভারেজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন সিস্টেমসহ দায়িত্ব পালন করবে। কোস্ট গার্ডের কার্যক্রমে আস্থা সৃষ্টির কারণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকায় কোস্ট গার্ড নিয়োজনের চাহিদা প্রদান করা হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ৩০ বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সমুদ্র, সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল, নদীতীরবর্তী এলাকা, সুন্দরবনের বিশেষ এলাকাসহ অন্য যে কোনো প্রয়োজনের দায়িত্ব পালনের জন্য কোস্ট গার্ডে বর্তমানে মাত্র ৫ হাজার ৩৯৭ জনবল অনুমোদিত রয়েছে। কিন্তু এ বৃহৎ এলাকাসহ ব্যাপক দায়িত্ব পালনের জন্য এই মুহূর্তে কোস্ট গার্ডের ন্যূনতম ৮ থেকে ১০ হাজার জনবল প্রয়োজন। আজ যদি কোস্ট গার্ডের এই জনবল বাহিনীতে থাকতো তাহলে নির্বাচনের পাশাপাশি নদীমাতৃক ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকসহ অন্যান্য অবৈধ মালামাল পাচার রোধ এবং সর্বোপরি দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতি রক্ষায় কোস্ট গার্ড আরও অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালনে সক্ষম হতো।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!