আন্তর্জাতিক

উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের পথে ট্রাম্প

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর, প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গতকাল বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই সফরে তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য উত্তেজনা বা মতবিরোধ দেখা দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ট্রাম্প গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান নিয়ে ‘দীর্ঘ আলোচনা’ করবেন বলে আশা করছেন। ইরান তার তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। যদিও সেই তেল যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এই সফর বিলম্বিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প ইরান নিয়ে মতবিরোধকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, সত্যি বলতে ‘সি যথেষ্ট ভাল মানুষ’। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বা অন্য যে কোনো উপায়ে ইরান পরিস্থিতি সামলাতে পারব। হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে ইরানের ব্যাপারে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে। আমরা যে কোনো ওপায়েই জিতব। শান্তিপূর্ণভাবে হোক বা অন্যভাবে, আমরা জিতবই।’ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ফোন করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিষয়গুলোর যথাযথভাবে সমাধানে ভূমিকা রাখতে হবে। এই সপ্তাহের সফরটি ২০১৭ সালের পর ট্রাম্পের এটি প্রথম চীন সফর। এই সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সি’র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। ব্যস্ত এই কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ ও চা-চক্রের অনুষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প গত সোমবার বলেছেন, তিনি সি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়েও আলোচনা করবেন। বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির রাষ্ট্র প্রধানদের আলোচনায় চীনের বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও দেশ দুটির বাণিজ্যিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো আলোচ্যসূচিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার বেইজিংয়ের রাস্তায় দুই পরাশক্তির শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। এএফপি সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পুলিশ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নজরদারি চালাচ্ছিল ও মেট্রোর যাত্রীদের পরিচয়পত্রও পরীক্ষা করছিল। পূর্বাঞ্চলীয় শহর নানজিং থেকে আসা ২৪ বছর বয়সী ওয়েন ওয়েন নামের এক নারী এএফপি’র পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সফর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় বিষয়।’ তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই কিছু অগ্রগতি হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার’ মধ্যেও তিনি আশা করেন চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’ নিশ্চিত করতে পারবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!