সারাদেশ

ইবি শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যার পর কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টা

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে ওই শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন করেছেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমাম হোসাইন। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বেতন নিয়ে ঝামেলা ও অন্য বিভাগে বদলির জেরে ইবির সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়ার গলায় ছুরি চালিয়ে দেন ফজলুর রহমান নামে এক কর্মচারী। পরে নিজের গলায়ও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ও ইবি থানার পুলিশ গিয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সর্বশেষ হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া মারা যান। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানান, চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে ২২৬ নম্বর রুমের দিকে ছুটে যান শিক্ষার্থীরা। এসময় আনসার সদস্যরা বাইরে থেকে দরজা ধাক্কা দিচ্ছিলেন। দরজা ভেতর থেকে আটকা ছিল। পরে কয়েকজন মিলে ধাক্কা দেওয়ার এক পর্যায়ে দরজাটি খুলে যায়। সেখানে ওই শিক্ষিকা ও কর্মচারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে খবর দেন শিক্ষার্থীরা। ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে ওই রুম থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরেকজনকে ওটিতে নেওয়া হয়েছে। প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, খবর আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এসময় একজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যজন কিছুটা নড়াচড়া করছিল। পরে তাদের দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেছে বলে খবর পেয়েছি।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!