জাতীয়

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি কতটুকু যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আন্দোলনকারীদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আন্দোলন করার অধিকার সবারই রয়েছে। আমরা দেখবো, তাদের দাবি কতটুকু যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য। আন্দোলনের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে কিনা প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এখনও ওই পর্যায়ে যায়নি। তারা (চিকিৎসকরা) সাধারণ মানুষকে সেবা দিচ্ছেন এবং চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছেন। আমরা সামগ্রিক বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, ছয় দফা দাবি আদায়ে সারা দেশে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গত রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ কর্মসূচি শুরু হয়। একই দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশও করেন তারা। এদিকে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে সরকার কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না। নির্দিষ্ট সময় শেষে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে আরও দুই দিন সময় নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান তিনি। ওই ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আইনজীবী নিয়োগ করে শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে, সে বিষয়ে সরকারের কিছু বলার নেই। তবে এর কারণে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত কোনো পরিবর্তন হবে না। ডেঙ্গু মৌসুমে প্রস্তুতিতে সব ধরনের চেষ্টা করছে সরকার উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য স্যালাইন রাখা জরুরি। এখন সরকারের কাছে পর্যাপ্ত স্যালাইন রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা না দেওয়ায় হামে এত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, সংসদীয় কমিটির কাছে দেওয়া এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যা হয়েছে তা সত্যি। তবে এখন সরকার টিকা কার্যক্রম চালিয়ে হামকে নির্মূল করতে চায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১৪০টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। এ জন্য সরকার-বেসরকারি ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!