অ্যাশেজেও ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সঙ্গে কাজ করতে চান পিটারসেন

ইংল্যান্ডের নতুন সাদা বলের পরামর্শক হিসেবে কাজ শুরুর পর এবার টেস্ট দল নিয়েও কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন কেভিন পিটারসেন। ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর কথা হয়েছে। পূর্ণকালীন দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব না হলেও আগামী শীতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং ২০২৭ সালের অ্যাশেজের আগে ইংল্যান্ডের টেস্ট ব্যাটারদের সঙ্গে কাজ করে প্রভাব রাখার আশা করছেন সাবেক এই ইংলিশ ব্যাটার।
ক্রিকইনফোকে পিটারসেন জানিয়েছেন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম গত মাসে তাঁকে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের স্বল্পমেয়াদি পরামর্শক হিসেবে কাজ করার বিষয়ে ফোন করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী বছরের ৫০ ওভারের বিশ^কাপ পর্যন্ত তিনি দলের সঙ্গে আসা-যাওয়ার ভিত্তিতে কাজ করবেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান সিরিজেও ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ সমতায় ফেরানোর ম্যাচের পর পিটারসেন জানান, টেস্ট দল নিয়েও ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তবে নিজের ব্যস্ত সূচির কারণে নিয়মিতভাবে দলের সঙ্গে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
পিটারসেন বলেন, “স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তবে তার মানে এই নয় যে আমাকে ড্রেসিংরুমে থাকতেই হবে। অ্যাশেজ সিরিজের আগে অনেক সময় আছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগেও অনেক সময় আছে। সেখানে আমি টেস্ট ব্যাটারদের সঙ্গে থাকব, আর কিছু আলোচনা করা যেতে পারে।”
তিনি জানান, শীতের সাদা বলের সফরগুলোতেও টেস্ট ব্যাটারদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকবে। ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিনটি ওয়ানডে রয়েছে। এসব সফরের সময় টেস্ট ব্যাটারদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
তবে অ্যাশেজের শেষ দিকে তিনি ইংল্যান্ডের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। পিটারসেনের ভাষায়, তাঁর “বেশ পাগলাটে সূচি” রয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের অ্যাশেজের শেষ দিকে তিন-চার সপ্তাহ আফ্রিকায় প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
পিটারসেনের সঙ্গে ফ্লেমিংয়ের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। নটিংহ্যামশায়ারে দুজনের একসঙ্গে কাজ করা হয়নি। ২০০৫ সালে ফ্লেমিং সেখানে অধিনায়ক হিসেবে যোগ দেওয়ার আগেই পিটারসেন হ্যাম্পশায়ারে চলে গিয়েছিলেন। তবে পরে দুজন মেলবোর্ন স্টার্সে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং আইপিএলেও তাঁদের যোগাযোগ ছিল। ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগেও ফ্লেমিং দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় তাঁদের কথা হয়েছে।
টেস্ট ব্যাটারদের মধ্যে হ্যারি ব্রুককেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন পিটারসেন। ইংল্যান্ডের এই সাদা বলের অধিনায়ককে নিয়ে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। পিটারসেনের মতে, ব্রুক কতটা ভালো এবং ভবিষ্যতে কতটা ভালো হতে পারেন, সেটি “ভীতিকর” পর্যায়ের।
ব্রুককে কোথায় সাহায্য করতে চান, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন পিটারসেন। তাঁর মতে, কারিগরি বিষয়গুলোর চেয়ে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করার ক্ষেত্রে তিনি বেশি সহায়তা করতে পারবেন।
পিটারসেন বলেন, “আমি তাকে পরিস্থিতি ও ম্যাচের অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে খেলতে সাহায্য করতে পারি। আমি যখন খেলতাম, তখন আমার ব্যাটিংয়ে অনেক কৌশল ছিল। মাঝে মাঝে ৮০ বা ৯০-এর ঘরে বেপরোয়া শট খেলে আউট হয়েছি, কিন্তু আমার ব্যাটিংয়ে আসলে অনেক কাঠামো ছিল।”
টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্টে নিজের ব্যাটিংয়ের কৌশল নিয়ে এখনো ফোনে নোট রাখা আছে বলেও জানান তিনি। সরাসরি স্টাম্পের দিকে শট খেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাটিং কৌশল নিয়ে সেই নোটগুলো ব্রুকের কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন সাবেক এই ব্যাটার।
ব্রুকের দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও পিটারসেনের হতাশা ছিল। দিল্লির হয়ে ২০২৫ মৌসুমে মেন্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, ব্রুকের স্পিন খেলার একটি বড় দুর্বলতা ঠিক করতে তিনি সাহায্য করতে পারতেন। তবে বর্তমানে ব্রুককে নিয়ে তাঁর মূল পরামর্শ কারিগরি নয়, বরং ম্যাচ পরিস্থিতি ও কৌশলগত বিষয়কেন্দ্রিক।
ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের সঙ্গে পিটারসেনের যুক্ত হওয়াটা তাঁর নিজের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাঁর বিদায় হয়েছিল বিতর্কের মধ্য দিয়ে। তৎকালীন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রস সেটিকে “আস্থার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। পরে ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলেরও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন পিটারসেন।
তাই ম্যাককালাম যখন প্রথম তাঁকে ফোন করেন, তখন তিনি ভেবেছিলেন বিপদে পড়েছেন। পিটারসেন বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আমি সমস্যায় পড়ে গেছি।” কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার পর তিনি বুঝতে পারেন, ইংল্যান্ড দলের ভেতরের বাস্তবতা তাঁর আগের ধারণার সঙ্গে মেলে না।
বর্তমানে ইংল্যান্ডের তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিকতা দেখে সন্তুষ্ট পিটারসেন। তাঁর মতে, খেলোয়াড়েরা সফল হওয়ার জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব এবং ম্যাককালাম দলকে আরও ফিট, শক্তিশালী ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো করে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিতর্কিত সমাপ্তি নিয়েও পিটারসেন এখন আর ভাবতে চান না। তাঁর ভাষায়, “আমি ৪৬ বছর বয়সী। ওই বিষয়গুলো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমিও সম্পূর্ণ বদলে গেছি।”
তিনি বলেন, এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য ম্যাককালামকে সহায়তা করা এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করা।
তবে আগামী বছরের ৫০ ওভারের বিশ^কাপ নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা দেখাননি পিটারসেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওই বিশ^কাপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার কথা রয়েছে তাঁর। দেশটির স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা দলকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের আরও উন্নতি প্রয়োজন বলেও স্বীকার করেছেন পিটারসেন। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ড বর্তমানে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।
পিটারসেন বলেন, “সফলতা অর্জন করতে পারলে দারুণ হবে। কিন্তু আমি এখানে বসে বলছি না যে আমরা বিশ^কাপ জিততে চাই। আমাদের লক্ষ্য আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হওয়া।”
তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ড সফল হলেও ওয়ানডেতে দলটি একই পর্যায়ে নেই। তাই আগামী ১২ মাসে বিভিন্ন দেশে খেলতে গিয়ে প্রতিদিন উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।




