প্রধান খবরসারাদেশ

অবরোধে স্থবির সাজেক, সংকট নিরসনে অগ্রগতি নেই

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা নবম দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। গতকাল শুক্রবার সকালে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে তাতে আগুন জ্বালান কর্মসূচির সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের দৈনন্দিন চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় এই কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সংগঠন দুটি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাঙামাটির বাঘাইহাট জোনের সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি সেখানে যান। বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সেনাপ্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দায়িত্ব পালন ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন। প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাসদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়ার জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডারসহ সেনা সদর ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ২২ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা। এ ছাড়া উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার এবং হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দাবি জানিয়েছেন তারা। সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধের দাবিও রয়েছে। পাশাপাশি তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গত ২২ অক্টোবর অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, অবরোধকারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। অবরোধের প্রথম দিনে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েন ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক। পরে ২২ অক্টোবর সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় পর্যটকদের গাড়িবহর সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!