অপরাধীরা ছাড়া ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দেওয়া যাবে: নাহিদ ইসলাম

অতীতে ছাত্রলীগ করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া যাবে, তবে অপরাধে জড়িতদের জন্য দলটির দরজা বন্ধ- এমনটাই জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অপরাধীরা কখনোই এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন না। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ। তিনি বলেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগ- যে সংগঠনই করুক না কেন, তা এনসিপির কাছে মুখ্য নয়। বরং কেউ যখন এনসিপিতে যোগ দেবেন, তখন থেকেই তিনি দলের আদর্শ ধারণ করে একজন সংগঠক ও নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করবেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্বশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী, তাদের নিয়েই দল সামনে এগোতে চায়। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে আগামীর রাজনীতি বিনির্মাণই এনসিপির লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, আজ যারা দলে যোগ দিচ্ছেন, তারা এতদিনও একই আদর্শে বিশ^াসী ছিলেন, শুধু প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সবাই একত্রিত হচ্ছেন। তিনি সারাদেশের তরুণসহ সব বয়সী মানুষকে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এসময নাহিদ ইসলাম বলেন, “সরকার একটি নাটক করল। তেল সংকট নেই, এসব বলে দাম বাড়িয়ে ফেলল। পুরোটাই পরিকল্পিত কাণ্ড। সিন্ডিকেটের প্রভাবে এটা করা হয়েছে।” তার অভিযোগ, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে কাঠামোগত পরিবর্তনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমান সরকার নষ্ট করে দিচ্ছে। “শুধু একটি দলের জায়গায় আরেকটি দল এসেছে, কিন্তু কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি,”মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ বলেন, দেশে একটি বৃহত্তর ঐক্য গঠন এখন সময়ের দাবি। বিভিন্ন সংগঠন ও প্ল্যাটফর্মের নেতাদের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এনসিপির আহ্বায়ক। সংবাদ সম্মেলনে আপ বাংলাদেশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং এবি পার্টির নেতাসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ৪৭ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। নেতারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে এই ঐক্য প্রয়োজন। এছাড়া ব্যঙ্গচিত্র তৈরির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।




