আন্তর্জাতিক

রিয়াদে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো হুথিরা, ভূপাতিত করল সৌদি জোট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী। প্রায় কাছাকাছি সময়ে সৌদি’র পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নাজারানে দু’টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোনও নিক্ষেপ করেছে তারা। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে সেই ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উভয়কেই ধ্বংস করেছে সৌদি-ইয়েমেন প্রতিরক্ষা জোট। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সৌদি জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের তরফ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এবং সৌদি দৈনিক আরব নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গতকাল শনিবার ভোর ৪টার কিছু পরে, সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ‘আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করে। বার্তায় রিয়াদ, নাজরান এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়াদি আল-দাওয়াসিরে আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়। সতর্কবার্তা জারির কয়েক মিনিট পরই রাজধানী রিয়াদে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। গতকাল শনিবারের এক্সপোস্টে সৌদি-ইয়েমেন জোট বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেছেন, “সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়াদের রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।”এর আগে এক পোস্টে ব্রিগেডিয়ার আল-মালকি বলেছিলেন, “পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।”সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো একটি বড় ধরনের হামলাও রয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটিতে ঘটা সবচেয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণগুলোর একটি। ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত নাজরান শহরটি বারবার সীমান্ত পেরিয়ে আসা রকেট ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ওয়াদি আল-দাওয়াসির অঞ্চলটি রিয়াদের একেবারে দক্ষিণে, ‘রুব আল-খালি’ (এমটি কোয়ার্টার বা বিশাল মরুভূমি) এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত। যদিও হুথিরা মাঝেমধ্যে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে নির্দিষ্ট কিছু হামলার দায় অস্বীকার করে থাকে, তবুও সীমান্ত পেরিয়ে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চার বছর ধরে চলে আসা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি গত জুলাই মাসে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এই সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধি। সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি বাহিনীর দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ২০১৫ সাল থেকে। সে বছর হুথি যোদ্ধারা পুরো উত্তর ইয়েমেনে ও রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদারাব্বুহ মনসুর হাদি সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি পালিয়ে যান। আবদারাব্বুহ মনসুর হাদিকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি- আমিরাত সামরিক জোট। তবে ২০১৯ সাল থেকে এই জোট থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে আমিরাত এবং ২০২৫ পুরোপুরি এ জোট থেকে সরে দাড়ায়। বর্তমানে রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আছে আর দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল হুথিরা। তারপর প্রায় চার বছর স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে দু’পক্ষের মধ্যে। বর্তমানে সেই উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সামরিক, ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে হুথি বিদ্রোহীরা এবং সৌদির বেশ ক্ষয়ক্ষতি সাধনেও সক্ষম হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূল এবং এ সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি গত মাসে দখল করেছে হুথিরা। এর ফলে বিদেশে সৌদির তেল রপ্তানি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সূত্র : এএফপি, আরব নিউজ

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!