নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও আইনি অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও আইনি অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। এখন দেশে নুসরাত-তনু হত্যার মতো কোনো ঘটনা নেই। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালির আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। আর তার সন্তান তারেক রহমান স্নাতক পর্যন্ত তা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সমাজ থেকে সব ধরনের অপকর্ম মুছে দেবে বিএনপি সরকার। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, অতীতে রাজপথে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের গৌরবজনক ভূমিকা ছিল। আফরোজা আব্বাস ও সুলতানা আহমাদসহ অনেক নেত্রী বারবার কারা নির্যাতিত হয়েছে। অনেক নারী হত্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে এখন সে ধরনের পরিস্থিতি নেই। সমাজে নুসরাত-তনু হত্যার মতো কোনো ঘটনা নেই এখন। এটিই বর্তমান সরকারের সফলতা। তাই আগামী দিনে সরকারের কর্মকাণ্ড সফল করতে মহিলা দলের নেত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান রিজভী। একইসঙ্গে সরকারের জনহিতকর ও নারীর ক্ষমতায়নের কর্মসূচিগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, নারীদের নাগরিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষিত ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে, সেগুলো জনগণের মধ্যে তুলে ধরতে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় দলের নেতাকর্মীরা এখন সরকারের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে আপনাদের রক্ত-ঘাম আছে। অতএব, এই সরকারের অংশ আপনারাও। শুধু পদ-পদবি পেলেই সরকারের অংশ হতে হবে, এমন নয়। এখন আপনারা নির্বিঘ্নে কথা বলতে পারছেন, চলাচল করতে পারছেন এবং নারীরাও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছেন। বিরোধী দলে থাকাকালীন মহিলা দলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আন্দোলনের সময় আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদসহ দলের অনেক নারী নেত্রীকে গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও কারাগারে যেতে হয়েছে। মাসের পর মাস তাদের ডিবি কার্যালয়ে ও কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। পুলিশের বেষ্টনী, অত্যাচার, মিথ্যা মামলা ও হত্যার মধ্যেও তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। মহিলা দলের নেত্রীদের যোগ্যতার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, মহিলা দলের জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন এবং রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সমানভাবে দক্ষ। জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তারা সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সুলতানা আহমেদ, জেরিন খানসহ যেসব নারী নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের এই সাফল্য দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর গৌরব। নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেয়েদের ডিগ্রি ও অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনাও অবৈতনিক করার কথা বলেছেন। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দুস্থ পরিবারের নারীদের হাতে সহায়তা পৌঁছানোও নারীর ক্ষমতায়নের বড় উদাহরণ। অতীতের মতোই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণবান্ধব, জনবান্ধব ও নারীর ক্ষমতায়নমূলক এসব কর্মসূচি উপলব্ধি করে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে মহিলা দলের প্রতি নির্দেশ দেন রিজভী। সমাবেশে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




