আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে শি জিনপিংয়ের ২৪ ঘণ্টার সফর, নিরাপত্তায় মোতায়েন ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর এটাই তার প্রথম ভারত সফর। মাত্র এক দিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি, সঙ্গে আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ২০০ কোম্পানি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে শি জিনপিংয়ের। এ বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ দুই দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এসেছে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও। নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে কয়েক স্তরে। শি জিনপিং যে হোটেলে থাকবেন, সেখানে উড়োজাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। হোটেল ও আশপাশে সন্ত্রাসবিরোধী দল এবং বোমা শনাক্তকারী ইউনিট মোতায়েন আছে। তল্লাশি চালানো হচ্ছে ব্যাপকভাবে। পারমাণবিক, তেজস্ক্রিয় ও জৈব-রাসায়নিক হুমকি শনাক্তের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হোটেলের আশপাশের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো পরীক্ষা করা হয়েছে আগে থেকেই। সফরের প্রায় ১০ দিন আগেই তার রাষ্ট্রীয় গাড়ি ‘হংকি’ পাঠানো হয়েছে কার্গো বিমানে। সঙ্গে একটি বিকল্প গাড়ি ও যোগাযোগের সরঞ্জামও এসেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট ভারতে থাকবেন প্রায় ২৪ ঘণ্টা। রোববার সকাল ১১টার দিকে ভারত মণ্ডপম থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার। বিদেশি নিরাপত্তা দলগুলোর কিছু সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারতের কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগের সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি নেই। কিছু অস্ত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেশে প্রবেশের পর কাস্টমসের কাছে জমা দিতে হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল অনুসারে এসব বিষয় দিল্লি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। শি জিনপিং সাধারণত এয়ার চায়নার বিশেষভাবে পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮-এ ভ্রমণ করেন। এটি চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজনে এটিকে ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। বিমানটিতে এনক্রিপ্টেড স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে, যার মাধ্যমে তিনি সরকার ও সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। হুমকি শনাক্তকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ও ইলেকট্রনিক সুরক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে এতে। ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে পুরো দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, যানবাহন তল্লাশি চলছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শান্তি পথ পর্যন্ত সম্ভাব্য রুটে ৭০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও পাঁচটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। তুঘলক রোড থানায় একটি বিশেষ সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৫০০ ক্যামেরার সরাসরি ফুটেজ দেখা যাচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!