যুদ্ধের মধ্যেও যে কৌশলে টান পড়েনি ইরানের অস্ত্র ভাণ্ডারে

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়ার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে একবারও থমকে যায়নি ইরান। কারণ হিসেবে দেখা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়িয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে শত্রুর আকস্মিক হামলার সুযোগ বন্ধ করতে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সামরিক গোপনীয়তাও বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পাশাপাশি আগের বছরগুলোতে গড়ে তোলা কৌশলগত মজুতের সহায়তায় অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। তালাই-নিকের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের বার্ষিক উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময় ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের কয়েকটি প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনায় সীমিত হামলা হলেও উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন শুধু অব্যাহতই থাকেনি, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কৌশলগত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক সরঞ্জামের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। সামরিক তথ্য ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তালাই-নিক। তিনি বলেন, দুর্বলতা এড়ানো এবং শত্রুর আকস্মিক হামলার সুযোগ বন্ধ করতে সামরিক গোপনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই গত দুই বছর ধরে প্রতিরক্ষা শিল্প দিবসে ইরান কোনো সামরিক প্রদর্শনী আয়োজন করেনি। শুধু তাই নয়, নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উন্মোচনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে দেশটি।




