খেলাধুলা

তৃতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়ালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বিশাল রানের চাপে পড়ে ম্যাচ থেকে দ্রুত ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। কিন্তু তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে অসাধারণ লড়াই করে সেই শঙ্কা অনেকটাই দূরে সরিয়েছে স্বাগতিকরা। শাই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভসের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভর করে অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছে ৪ উইকেটে ৩১৮ রান। এখনও তারা শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের ৫৪৯ রানের চেয়ে ২৩১ রানে পিছিয়ে। দ্বিতীয় দিনের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৫৮ রান। জন ক্যাম্পবেল ও কাভেম হজকে নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন স্বাগতিকরা। শুরু থেকেই দুজন সতর্ক ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের হতাশ করতে থাকেন। ধীরগতির হলেও উইকেট না হারানোর দিকেই বেশি মনোযোগ ছিল তাদের। বিশেষ করে জন ক্যাম্পবেল ছিলেন বেশ আত্মবিশ^াসী। অফ সাইডে কয়েকটি চমৎকার ড্রাইভ এবং শর্ট বলে আক্রমণাত্মক পুল শটে রান তুলতে থাকেন এই ওপেনার। ১০০ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৫৪ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৭২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন ক্যাম্পবেল। দ্বিতীয় উইকেটে কাভেম হজকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ৮৯ রান। তবে এই জুটি ভাঙার পর দ্রুতই চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ১২২ রানে আসিথা ফার্নান্দোর বলে ক্যাম্পবেল ক্যাচ দেন দিনেশ চান্দিমালের হাতে। এরপর মাত্র ১৩ রান যোগ করতেই ফিরে যান আমির জাঙ্গু ও কাভেম হজ। জাঙ্গুকে ৯ রানে ফেরান প্রবাথ জয়াসুরিয়া। আর দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকেও খুব ধীরগতির ইনিংস খেলা কাভেম হজ ১৩৯ বলে ৩১ রান করে জয়াসুরিয়ার শিকার হন। হজের ইনিংসে ছিল মাত্র দুটি চার। ১৪৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর আবারও বড় বিপদের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। সেখান থেকেই শুরু হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিনের সেরা প্রতিরোধ। অধিনায়কোচিত ব্যাটিং করেন উইকেটরক্ষক শাই হোপ। অন্যপ্রান্তে সমান দৃঢ়তায় তাকে সঙ্গ দেন জাস্টিন গ্রিভস। দুজনই শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও সেট হওয়ার পর ধীরে ধীরে রান তোলার গতি বাড়ান। হোপ ছিলেন পুরো ইনিংসের নিয়ন্ত্রক। স্পিনারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফুটওয়ার্ক আর পেসারদের বিপক্ষে দারুণ ধৈর্যে এগিয়ে যান ফিফটির দিকে। ৯০ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা এই ব্যাটার দিন শেষে অপরাজিত আছেন ১৭৩ বলে ৮৬ রান করে। তার ইনিংসে রয়েছে ৯টি চার। অন্যদিকে জাস্টিন গ্রিভস খেলেছেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা টেস্ট ইনিংস। মিডল অর্ডারে নেমে শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন তিনি। আলগা বল পেলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। ৮৫ বলে ফিফটি ছোঁয়া গ্রিভস দিন শেষে ১৬২ বলে ১০ চারসহ ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন। পঞ্চম উইকেটে ইতোমধ্যেই ১৭৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন হোপ ও গ্রিভস। এই জুটিই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে। দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েও দিনের শেষ সেশনে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। বল হাতে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার আসিথা ফার্নান্দো ও প্রবাথ জয়াসুরিয়া। দুজনই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। আসিথা ২৫ ওভারে ৭৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন। অন্যদিকে দীর্ঘ স্পেলে বোলিং করা জয়াসুরিয়া ৩৬ ওভারে মাত্র ৭৭ রান খরচায় দুটি উইকেট শিকার করেন। তবে দিনের শেষ দুই সেশনে হোপ-গ্রিভস জুটির সামনে বেশ নিরীহই দেখিয়েছে লঙ্কান বোলিং আক্রমণকে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!