আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়: গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করা কঠিন তবে সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে যেকোনো কূটনীতিতে যুদ্ধক্ষেত্রের অর্জনগুলোকে অবশ্যই বজায় রাখতে হবে বলে জোর দিয়েছেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-র বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রাজধানী তেহরানে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানের ফাঁকে হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ দারবিশের সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। গালিবাফ বলেন, প্রতিরোধ বাহিনীর অর্জনগুলোকে ধরে রেখে এবং সুসংহত করেই কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সামরিক অচলাবস্থা নিরসন করা উচিত। তিনি বলেন, এটি কেবল তখনই ঘটতে পারে যখন কূটনীতির পাশাপাশি দেশ প্রতিরক্ষার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়াহ-তে যেদিন হামলা চালায়, সেই রাতে আলোচনা স্থগিতের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। গালিবাফ বলেন, তেহরান মার্কিন পক্ষকে জোরালোভাবে জানিয়েছিল যে আঞ্চলিক দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গালিবাফ আরও বলেন, সেই ধারাটি চুক্তিতে যোগ করা হয়েছে। এখন এই সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর বাস্তবায়ন কঠিন তবে সম্ভব। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহের যুদ্ধের পর ইসলামাবাদে এই সমঝোতা স্মারকটি সম্পাদিত হয়। এতে বৈরিতা অবসান, হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং লেবাননসহ একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য একটি পর্যায়ভিত্তিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এদিকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায় অনুষ্ঠান গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন দেশের নেতা এবং সরকারি প্রতিনিধিদল তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। রাষ্ট্রীয় সময়সূচি অনুযায়ী, জনসাধারণের বিদায় অনুষ্ঠান শেষে গতকাল সোমবার তেহরানে মূল জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আজ মঙ্গলবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হবে। আগামী বুধবার ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ অনুষ্ঠান সূচি রয়েছে। সেখানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা মরদেহ গ্রহণ করবেন এবং প্রধান শিয়া মাজারগুলোয় নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই ইমাম রেজা মাজারে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন কার্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!