জাতীয়প্রধান খবর

খেলার পাশাপাশি পড়াশোনা-সংস্কৃতিতেও পারদর্শী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশুদের শুধু খেলাধুলা করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা ও উদ্ভাবনী কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমাদের হাতেই আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেললে চলবে না, লেখাপড়াও করতে হবে। এর পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কবিতা আবৃত্তি, কুরআন-কেরাত থেকে শুরু করে নতুন নতুন ইনোভেটিভ কাজেও নিজেদের যুক্ত করতে হবে। তোমরা যদি সব কিছুতে নিজেদের পারদর্শী করতে পারো, তবেই আমরা একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ক্ষুদে খেলোয়াড়দের দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তোমরা যারা আজ এখানে খেলছো বা গ্যালারিতে বসে আছো, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আমরা যারা বড় আছি, আমরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। বড় হয়ে তোমাদেরই এই দেশ চালাতে হবে এবং আমাদের চেয়েও ভালোভাবে চালাতে হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্রিকেট দিয়ে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। আগামীতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলা দিয়ে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে। তোমরাই হবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক— এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় পর্যায়ে খেলা নয়, অলিম্পিকেও যেন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। খেলাধুলার প্রসারে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টুর্নামেন্টে গত দেড় মাসে সারাদেশে প্রায় ২২ লাখ শিশু অংশ নিয়েছে। আগামীতে আমরা মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) স্কুলেও এই গেম শুরু করব। এ ছাড়া এ বছর মাধ্যমিক ও আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’ চালু করা হবে। শিশুদের সবুজ মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে নতুন নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড় ও কোচদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট সফল করতে সহযোগিতা করায় সব শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এবারের টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দড়িররামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আউচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) এবং সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার জিতেছে বরিশাল বাকেরগঞ্জের যথাক্রমে আবু রেদওয়ান ও শাহাদাত ইসলাম। বালিকা বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন নান্দাইলের পরশমণি এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন। অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গ্যালারি ভর্তি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!