জমির বিরোধে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, ধারণা পুলিশের

নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক দম্পতি ও তাদের দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন। গতকাল বুধবার সকালে নিয়ামতপুর থানা পুলিশের ওসি মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে থাকারা হলেন, নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা ও হালিমা, ভাগ্নে সবুজ রানা (২৫) এবং ভগ্নিপতি শহিদুল। নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। আলামতগুলো বিশ্লেষণ এবং পুলিশি হেফাজতে থাকাদের জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য বেরিয়ে আসছে, তাতে মনে হচ্ছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা বিষয়টিকে এখনই নিশ্চিত করে বলছি না। আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছি এবং বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা নিয়ে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছি। আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করলে তাদেরও পুলিশি হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এদিকে গত মঙ্গলবার বিকেলে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। গতকাল বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় ঘরের ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকলে তাদের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। আরও জানা যায়, হাবিবুর রহমানকে তার বাবা বেশি জমি লিখে দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে তার বোন শিরিনার দ্বন্দ্ব চলছিল। শিরিনা ও তার পরিবার এ নিয়ে আগেও হাবিবুরদের হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।




