খেলাধুলা

শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করলো ইংলিশরা

পাল্লেকেলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও সেটা কাজে লাগাতে পারলো না। লো স্কোরিং ম্যাচে ১২ রানে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করলো ইংল্যান্ড। পাল্লেকেলেতে ঘূর্ণি উইকেটে রীতিমতো স্পিন দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে বধ করলো ইংলিশরা। মাত্র ১২৯ রানের লক্ষ্যও তাড়া করতে সক্ষম হয়নি শ্রীলঙ্কা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন ১২৮ রান করেছিল ইংল্যান্ড। এই সর্বনিম্ন রানও তাড়া করতে পারলো না শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত উইল জ্যাকস ও জ্যাকব বেথেলের ঘূর্ণিতে ১১৬ রানে অলআউট হলো স্বাগতিকরা। উইল জ্যাকস ম্যাচের মাঝপথে পথ দেখালেও ম্যাচের শেষ সিলটি মারেন জ্যাকব বেথেল- ক্যারিয়ারসেরা ১১ রান নিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে। তার চার উইকেটই এসেছে শেষ আট বলের মধ্যে। জয়ের মুহূর্তে মহেশ থিকশানার আকাশছোঁয়া স্লগ শর্ট থার্ডে লিয়াম ডসনের হাতে ধরা পড়তেই উদযাপনে মেতে ওঠে ইংল্যান্ড শিবির। এ জয়ে নিশ্চিত হলো, টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের আগে তিন ম্যাচের সিরিজে ব্যাট-বল সব বিভাগেই পরীক্ষায় উতরে আত্মবিশ^াস চূড়ায় ইংল্যান্ড। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের ইনিংসের সূচনা শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ফিল সল্টের বদলি হিসেবে বেন ডাকেট প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ- দুশমন্ত চামিরার রিভিউতে তিনটি ‘রেড’ (২/১)। বেথেল ধীরগতির বলে ভুল করে কিপারের হাতে তিন রানে। দুনিথ ভেল্লালাগের বলে ৭ রানে টম ব্যান্টনও এলবিডব্লিউ। পাওয়ারপ্লের শেষে জস বাটলার কিছুটা টিকে থাকলেও থিকশানার বলে ২৫ রানে বোল্ড হন। হ্যারি ব্রুকও পাথিরানার ধীরগতির বলে আগেভাগে শট খেলে সহজ ক্যাচ দেন। ১১ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৬০ রানে। এরপরই দৃশ্যপট বদলান স্যাম কারান। ব্যাক-অ্যান্ডে দুর্দান্ত গেম সেন্সে ৪৮ বলে করেন ৫৮ রান। ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস। লিয়াম ডসনের সঙ্গে ৭ ওভারে ৪৭ রানের জুটি ইংল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফেরায়। তবে চামিরা শেষদিকে আবারও আঘাত হানেন- ডসন ও জেমি ওভারটনের উইকেট তুলে নিয়ে, শেষ ওভারে কারানকে কাবু করে নিজের ক্যারিয়ারসেরা ৫/২৪ নিশ্চিত করেন। তবু ইংল্যান্ড পৌঁছায় ১২৮-এ। জবাব দিতে নামা শ্রীলঙ্কাকে শুরুতেই লুক উড প্রথম ওভারে কামিল মিশারাকে শূন্যতে ফেরান। পাথুম নিশাঙ্কা কিছুটা ঝড় তোলেন- ২৩ (১১)। কিন্তু ডসনের বলে লিডিং এজে কভারে ধরা পড়েন। এরপর আদিল রশিদের রাগিং টার্নে পাভান রথনায়েকের স্ট্যাম্প উড়ে যায়, কুশল মেন্ডিসও জ্যাকসের বলে শর্ট ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে ধরা- ২৬ (২৬)। ১০ ওভারে ৪ উেইকেটে ৬২ রানে যখন শ্রীলঙ্কা, ম্যাচ তখন খোলা। কিন্তু জ্যাকস-রশিদের যুগলবন্দিতে চাপ বাড়ে। কামিন্দু মেন্ডিস এলবিডব্লিউ, দাসুন শানাকার স্ট্যাম্পিং- সব মিলিয়ে শেষ দিকে বেথেলের ওভারে নাটক চরমে। ভেল্লালাগের স্লগ-সুইপে বাটলারের ক্ষিপ্র ক্যাচ, পরপর উইকেট, আর শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণ- সবই নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচ শেষ করেন বেথেল।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!