লেবাননে অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর শহরের আবাসিক এলাকায় এ ধরনের দাহ্য অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। গতকাল সোমবার আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির গবেষকরা অন্তত সাতটি ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছেন, যেখানে দেখা গেছে ইয়োহমোরের আকাশ থেকে সাদা ফসফরাস যুদ্ধাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে আবাসিক এলাকার ওপর ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে ইয়োহমোর শহরের অন্তত দুটি বাড়ি ও একটি গাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনাও নিশ্চিত করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গ্রামটি খালি করার নির্দেশ দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। তবে সেই মুহূর্তে কোনো বেসামরিক লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংস্থাটি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননভিত্তিক গবেষক রামজি কাইস এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিহিত করে বলেন, আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাসের প্রয়োগ বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। এই রাসায়নিক পদার্থ মানুষের শরীরকে হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে ফেলতে পারে ও এর ফলে অঙ্গহানি, শ্বাসকষ্ট এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা প্রায়ই আজীবন কষ্টদায়ক ক্ষত এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের মতো দাহ্য অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ। কারণ এটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। অতীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, তারা কেবল ধোঁয়ার আড়াল তৈরির জন্য এই পদার্থ ব্যবহার করে, কোনো মানুষকে লক্ষ্য করে নয়। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আগেও একাধিকবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই বিতর্কিত অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলকে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ করার ও সহযোগী দেশগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।




