যিনি প্রার্থী, তিনিই সিলেকশন কমিটির সদস্য
জাবিপ্রবিতে ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অস্বচ্ছতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের সিলেকশন কমিটিতে নিয়ম বর্হি:ভূতভাবে ওই পদের জন্য প্রার্থী ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমানকেই সিলেকশন কমিটির সদস্য করে নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে রেজিষ্ট্রার বলছেন, সহযোগি অধ্যাপক পদের জন্য প্রার্থী হওয়ায় তিনি সিলেকশন কমিটির সদস্য হিসেবে থাকেননি।

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের সিলেকশন কমিটির নোটিশের সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, ভাইস চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ৩৭.০১.০০৪৪.০৫৫.১১.০০১.২৫.৬৬ স্মারকে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার এস. এম আহসান হাবিবের স্বাক্ষরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের সিলেকশন কমিটির নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। উক্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫.০৯.২৫ তারিখের ৩৭.০১.০০৪৪.০৫৫.১১.০০১.২৫.২৫ নম্বর স্মারক দ্বারা স্থগিতকৃত ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক নিয়োগের সিলেকশন কমিটির সভা কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে আগামী ০৬.১২.২৫ তারিখ শনিবার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাস্থ গেস্ট হাউস (ফ্ল্যাট নং-ডি-১, বাড়ি নং-৭০/১, সড়ক ৬/এ, ধানমন্ডি-১২০৯) এ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় সিলেকশন কমিটির সকল সদস্যবৃন্দকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়। ওই নিয়োগের সিলেকশন কমিটির সদস্য করা হয়েছে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রোকনুজ্জামান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সাইন্স এন্ড ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. শেখ আলতাব উদ্দিন, ইউজিসি প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রফেসর ড. খন্দকার সাদাত হোসেন, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান এবং বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুুরীকে।

অথচ এই সিলেকশন কমিটির সদস্য জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান নিজেই ওই সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক নিয়োগের সিলেকশন কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, যিনি সিলেকশন কমিটির সভাপতি হবেন। এছাড়াও একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত ১ জন বিষয় বিশেষজ্ঞ, মঞ্জুরি কমিশনের ১ জন প্রতিনিধি এবং রেজিস্ট্রার, যিনি সিলেকশন কমিটির সচিব হবেন। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয়ের গেজেট অনুসরন না করে নিয়ম বর্হি:ভুতভাবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে, আবার তিনি ওই পদের জন্য প্রার্থীও। যিনি প্রার্থী, আবার তিনিই সিলেকশন কমিটির সদস্য এমন ঘটনায় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন দুর্নীতি হচ্ছে কিনা তারও তদন্তের দাবি উঠছে।
এ ব্যাপারে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূর হোসেন চৌধুরী জাবিপ্রবির ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের সিলেকশন কমিটিতে ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমানকে সদস্য করে নোটিশ ইস্যু করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি যেহেতু প্রার্থী ছিলেন, তাই তিনি লিখিতভাবে জানিয়ে ওই সিলেকশন কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন না। এছাড়াও সিলেকশন কমিটিতে সদস্য করার ক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট অনুসরন করা হয়নি প্রশ্নের উত্তরে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সিলেকশন কমিটিতে বিভাগীয় প্রধানকে সদস্য বিধান রয়েছে, আপনি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেই আইন দেখতে পারেন। তবে ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে কতজন প্রার্থী হয়েছেন, তার সংখ্যা তিনি বলতে পারেননি।




