ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের পর ওয়াশিংটন পোস্টের সিইও’র পদত্যাগ

ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রকাশক উইল লুইস তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি শনিবার পত্রিকাটির বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন এই ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাটি সম্প্রতি বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই করায় পাঠক ও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সংবাদপত্র শিল্প দীর্ঘদিন ধরে কঠিন পরিস্থিতির মুখে থাকলেও, দৈনিকটির আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় লুইসের দুই বছরের ব্যবস্থাপনা সাবস্ক্রাইবার ও কর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ইংরেজ নাগরিক লুইসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জেফ ডি’অনোফ্রিও, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম টাম্বলার-এর সাবেক সিইও এবং গত বছর ওয়াশিংটন পোস্টে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কর্মীদের উদ্দেশে এক ইমেইলে লুইস বলেন, ‘আমার সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই সঠিক সময়।’ পত্রিকার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডি’অনোফ্রিও তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। গত মঙ্গলবার ঘোষিত ব্যাপক ছাঁটাইয়ে পোস্টের শত শত সাংবাদিক—বিদেশ, স্থানীয় ও ক্রীড়া বিভাগের অধিকাংশ কর্মী—চাকরি হারান। কতজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে তা পত্রিকাটি প্রকাশ না করলেও নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ৮০০ সাংবাদিকের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনের কিয়েভভিত্তিক সংবাদদাতা এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পুরো টিমকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়া, গ্রাফিকস ও স্থানীয় সংবাদ বিভাগ ব্যাপকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে এবং দৈনিক পডকাস্ট ‘পোস্ট রিপোর্টস’ স্থগিত করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলে পত্রিকার সদরদপ্তরের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
সম্পাদনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন আয়ের পতনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সংবাদপত্রগুলো বড় সংকটে পড়েছে। তবে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো জাতীয় পত্রিকাগুলো আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারলেও, ধনকুবের মালিক থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন পোস্ট তা পারেনি। কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় লুইস বলেন, উচ্চমানের নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই তার মেয়াদকালে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে হয়েছে। তবে বেজোস ও লুইসের বিরুদ্ধে পত্রিকার সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থনের সম্পাদকীয় অনুমোদন না দিয়ে বেজোস সম্পাদকীয় স্বাধীনতার তথাকথিত ‘ফায়ারওয়াল’ ভেঙেছেন বলে সমালোচনা হয়। অনেকেই এটিকে ট্রাম্পের প্রতি নমনীয়তা হিসেবে দেখেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যারিসকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর পোস্টের প্রায় আড়াই লাখ ডিজিটাল গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেন এবং ২০২৪ সালে বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন আয় কমে যাওয়ায় পত্রিকাটির প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০ কোটি ডলার) ক্ষতি হয়। ২০২১ সাল পর্যন্ত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মার্টি ব্যারন বলেন, এই ছাঁটাই ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবাদ সংস্থার ইতিহাসের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি।’




