পানামায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

দক্ষিণ পানামায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দারা গত শনিবার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কাজ শুরু করেছেন। তবে আগের দিনের ভয়াবহ কম্পনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। পানামা সিটি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে চিত্রে শহরে একটি দোকানের ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় আলদুলফো কুইন্তেরো বলেন, ‘এমন ঘটনা আমরা আগে কখনো দেখিনি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।’ পানামার ভেরাগুয়াস প্রদেশের গ্রামীণ এলাকা চিত্রা, থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ৪১ বছর বয়সী কুইন্তেরো এএফপিকে বলেন, যেকোনো মুহূর্তে আবার ভূমিকম্প হতে পারে-এমন আশঙ্কায় তিনি ভীষণ ভীত। শুক্রবার দুপুরের দিকে প্রথম ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর শতাধিক পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ছিল ৬। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হেরেরা প্রদেশের রাজধানী চিত্রার অন্য অনেক বাসিন্দার মতো ২৮ বছর বয়সী ইয়াকশুরি কাস্তিয়োও নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এএফপিকে বলেন, প্রথম ভূমিকম্পের সময় তিনি ‘আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।’হেরেরা প্রদেশের আরেক শহর মাকারাকাসে ৬৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি হাভিয়ের হিমেনেসকে স্থানীয় একটি স্কুলে রাত কাটাতে হয়েছে। নিজের বাড়ির প্রবেশপথে ছাদের ভাঙা টাইলস পড়ে থাকতে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এভাবে বাঁচতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবাই ভয়ে আছে। বারবার ভূমিকম্প হচ্ছে। আমরা বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছি না।’ ৬৬ হাজার বাসিন্দার এ শহরে কয়েক ডজন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শনিবারও সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, প্রথম ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে হেরেরা, লস সান্তোস ও ভেরাগুয়াস প্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি। পানামায় ভূমিকম্পের ঘটনা বিরল। সাধারণত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় কোস্টারিকা সীমান্তবর্তী চিরিকি প্রদেশে এ ধরনের কম্পন অনুভূত হয়।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা-
ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে পানামা সিটিতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এতে আতঙ্কিত মানুষ রাজধানীর অসংখ্য বহুতল ভবন থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রায় ৩০ জনকে সামান্য আঘাতের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ এখনও চলছে। ভূমিকম্পে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকায় পৌঁছে প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেন, ‘আমরা যে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি, তা ব্যাপক।’ গত শনিবার তার সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর ফলে মানবিক সহায়তা বাবদ ‘১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত’ অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সিমন্ত্রী হুয়ান কার্লোস ওরিয়াক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগের সদস্য পানামাকে দ্রুত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, তিনি পরিস্থিতির ওপর ‘ঘনিষ্ঠ নজর রাখছেন।’ সহায়তার জন্য তাঁর দপ্তর ‘দ্রুত সম্পদ ও জনবল প্রস্তুত করছে’ বলেও জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার ফ্রান্সিস ডোনোভান পানামার জনগণকে সহায়তায় অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম আকাশপথে দেশটিতে পৌঁছে দেওয়া। এ বছর ল্যাটিন আমেরিকায় ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা এ নিয়ে অন্তত চতুর্থবার ঘটল। এর আগে জুনে ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরায় পরপর দু’টি ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং আগস্টে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।




