পরিবারতন্ত্রের সংস্কৃতি চিরতরে মুছে দিতে চাই: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুব সমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে জামায়াত। যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসবে, তাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, দ্বিতীয় ভোট হবে ইনসাফের পক্ষে। আমরা পরিবারতন্ত্রের সংস্কৃতি চিরতরে মুছে দিতে চাই। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন রিকশাচালকও প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। গতকাল শুক্রবার ফেনীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি এ দেশের মানুষ ১২ তারিখ প্রত্যাখ্যান করবে। সারা দেশে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারীদের বেইজ্জতি আমরা সহ্য করতে পারব না। বিএনপির প্রতিশ্রুত বেকার ভাতা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বসে বসে বেকার ভাতা খাব না, আমরা কর্মসংস্থান তৈরি করব। ন্যায় ও ইনসাফের জন্য আমরা চাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। পেছনে নয়, সামনে দৌড়াব। ফেনীর ভোটারদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। যে বাঁধের কারণে ফেনীবাসীর দুঃখ, বন্যার সেই চিরায়ত সমস্যার সমাধান করা হবে। ফেনীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম করার চেষ্টা করবে জামায়াত। সবশেষে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আমরা নির্বাচন কী, তা দেখিনি। আমাদের ওপর চরম অত্যাচার চলেছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি বাদ না দিলে মানুষ চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই দলে দলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। জনসভা শুরুর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টায় আমিরে জামায়াত সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মুজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান। ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক এবং জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে নির্বাচনি জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা অনেকেই মজলুম ছিলাম। যারা ধৈর্য ধরতে পারেন নাই, বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয় পড়েছেন ক্ষমতায় যাওয়ার আগে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে আমরা ভালোবাসি। প্রতিটা মানুষকে আমরা ভালোবাসি। এ দেশের প্রতিটা ধর্মের লোক আমাদের। আমরা চাঁদাবাজি করি নাই। আমাদের হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমরা কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করি নাই, আমরা মামলা বাণিজ্য করি নাই। দেশের যুবসমাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবকদের হাতে আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না, তাদের হাতে দেশ তুলে দেবো। তারা হবে আগামী দিনের বাংলাদেশের পাইলট, আমরা হবো তাদের প্যাসেঞ্জার। নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে নোয়াখালীর সুবর্ণচরকে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হবে। এ ছাড়া নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াসহ নোয়াখালী অঞ্চলে মানুষের অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে জনসভা শুরু হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা। আমিরের সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম বিল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু. মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, তথ্য সম্পাদক মুহাম্মাদ সায়েদ সুমনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




