জাতীয়ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনপ্রধান খবর

নির্বাচনে কোনো হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

নির্বাচনে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন জানিয়ে ঢাকার পুলিশ কমিশনার সাজ্জাত আলী বলেছেন, এবারের ভোটে কোনো ‘হুমকি’ তিনি দেখছেন না।

সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ডিএমপি সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।”

রাজধানীতে মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র জানিয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকি ও ভোটারের সংখ্যা বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্রে চারজন করে, ৫১৭টি ‘সাধারণ’ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবে ৫১০টি মোবাইল টিম ও ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর আটটি বিভাগে আটটি কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বম ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন ভ্যান ও আর্মড পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে বলে তথ্য দেন ঢাকার পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি মেনে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, জাল ভোট হলে করণীয় কী, ব্যালট পেপার এবং ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তার জন্য কী করণীয়–এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য নির্বাচনে ‘ইতিবাচক’ ভূমিকা রাখবে বলেই তার বিশ্বাস।

কামরাঙ্গীরচর, বাড্ডার সাঁতারকুল, বেরাইদ এলাকায় যাতায়াত জটিলতার কারণে ৩৭টি কেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবে চিহ্নিত করে সাতজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন সাজ্জাত আলী।

তিনি বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের মূল দায়িত্ব হবে—নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভোট গ্রহণ ও নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট সামগ্রী পরিবহনে নিরাপত্তা দেওয়া, নির্বাচন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা।”

এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে কোনো হুমকি আছে কি না জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, “না, কোনো হুমকি নেই। নির্বাচন সকালের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং ঝুঁকি মুক্ত হবে।”

নগরবাসীর উদ্দেশে পুলিশ কমিশনার বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। অতীতের সব বিতর্ক ও কালিমা কাটিয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!