নামাজি ব্যক্তির কতটুকু সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া জায়েজ?

মহান আল্লাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান নামাজ। মুমিন যখন নামাজ পড়েন আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেন। তাই তো পৃথিবীতে মহান আল্লাহর দেয়া বিধানগুলোর মধ্যে নামাজের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। নামাজের মর্যাদা যেমন বেশি নামাজীর মর্যাদাও বেশি। অনেকে জানতে চান, নামাজি ব্যক্তির কতটুকু সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া যাবে?
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, নামাজি ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুনাহের কাজ। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাজি ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত এতে কীরূপ শাস্তি ভোগের আশঙ্কা রয়েছে তাতে, তবে চল্লিশ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকাও ভালো মনে করতো। বর্ণনাকারী আবুন নাযর বলেন, আমার জানা নেই, হাদিসে চল্লিশের কী অর্থ, চল্লিশ দিন, চল্লিশ মাস, নাকি চল্লিশ বছর! (বুখারি, হাদিস : ৫১০, মুসলিম, হাদিস : ৫০৭)
হাদিসে আছে ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱ ﺍﻟﻤﺼﻠﻲ নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দৃষ্টি সেজদার স্থানে থাকলে সাধারণত যে স্থান পর্যন্ত নামাজরত ব্যক্তির নজরে অনুভূত হয় ততটুকু জায়গার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা যাবে না। এর বাইরে দিয়ে অতিক্রম করা যাবে। অনেক মসজিদে ‘সুতরা’ না থাকায় কাপড় ঝুলিয়ে, রুমাল ঝুলিয় সামনে দিয়ে মুসল্লিরা যাতায়াত করেন। এটা সুতরা হিসেবে যথেষ্ট হয় না। তবে বিশেষ ওজরের মুহূর্তে সামনে রাখার মতো কোনো কিছু পাওয়া না গেলে ঐভাবে যাওয়া যাবে। (শরহুল মুনইয়াহ পৃষ্ঠা ৩৬৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৯)
নামাজের জামাত শুরু হয়ে যাবার পর খুব বেশি প্রয়োজনে জামাতে শরিক থাকা মুসল্লিদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা জায়েজ আছে। সেই হিসেবে যদি সামনে কাতার খালি রেখে পেছনের কাতারে কিছু মুসল্লি দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে বাকি মুসল্লিদের নামাজ চলা অবস্থায় তাদের সামনে দিয়ে গিয়ে সামনের কাতারে দাঁড়ানো জায়েজ আছে। সুতরাং পেছনের কাতারেও জায়গা থাকলে সামনে বিকল্প রাস্তা না থাকা অবস্থায় মুসল্লিদের সামনে দিয়ে গিয়ে পেছনে দাঁড়ানোতে কোনো সমস্যা নেই।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি প্রাপ্তবয়স্ক হবার নিকটবর্তী বয়সে একবার একটি গাধীর উপর আরোহণ অবস্থায় এলাম। আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মিনায় নামাজ আদায় করছিলেন, তার সামনে কোনো দেয়াল না রেখেই। তখন আমি কোনো এক কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম, গাধীটিকে বিচরণের জন্য ছেড়ে দিলাম। আমি কাতারের ভেতর ঢ়ুকে পড়লাম কিন্তু এতে কেউ আমাকে নিষেধ করেননি। (বুখারি, হাদিস ৭৬)




