রাজনীতি

জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পর্ক ভয়ংকর অশনিসংকেত: মজহার

বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সম্পর্ক থাকা একটি ভয়ংকর অশনিসংকেত। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবে দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিশুদ্ধ পানির সংকট, নাগরিক সমাজের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মজহার অভিযোগ করে বলেন, গাজায় তথাকথিত ‘স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ পাঠানোর বিষয়ে জামায়াত কোনো আপত্তি তোলেনি। সম্প্রতি বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে খবর হয়েছে জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব চায়’ যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় যেতে পারলে জামায়াত যদি বাংলাদেশে শরিয়াহভিত্তিক কিছু চাপিয়ে দেয় কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ নয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেয় তাহলে দেশটি কী ব্যবস্থা নেবে সেসবও কূটনীতিকরা ভেবে রেখেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরহাদ মজহার বলেন, বোঝা গেলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের নীতির একটা সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বক্তব্য দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বড় ভূরাজনৈতিক শক্তি উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক আইন বলে কিছু কার্যকর নেই। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণই তার প্রমাণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যেকটা দলই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। এই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে আমরা কীভাবে টিকে থাকবো? আমি যুদ্ধ চাই না, কারও যুদ্ধে জড়াতে চাই না। সাধারণভাবে ডাল-ভাত খেয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই। ভারতীয় আধিপত্যের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই ভারতবিরোধী কথা বলেন, কিন্তু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তেমন কথা বলেন না। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল। বক্তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!