চলন্ত বাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: চালকসহ ৩ জন কারাগারে

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্তবাসে এক তরুণীকে (২৬) রাতভর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত চার আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার বাসচালক, হেলপারসহ তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত অপর একজন পলাতক রয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলি আদালতের বিচারক রুমেলিয়া সিরাজাম ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অভিযুক্তরা হলেন- দিনাজপুরের নরদেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে বাসচালক আলতাফ (২৫) ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল পাগা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে বাস চালকের সহকারী মো. রাব্বি এবং ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরহাট গ্রামের চুন্নু মাতবাবরের ছেলে মো. সাগর (২৪)। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় বাসচালক, হেলপারসহ চার জনের নামে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে সাভারের রেডিওকলোনি থেকে আশুলিয়া যাবার জন্য সাভার পরিবহনে ওঠেন ওই তরুণী। সেসময় ওই বাসে আরও দুজন যাত্রী ছিলেন। পরে ওই দুই যাত্রী রাস্তায় নেমে যাওয়ার পর ওই তরুণীকে জোর করে আটকে রেখে সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয় চালক-হেলপাররা। পরে বাসটি বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করে রাতভর ওই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।
পরদিন গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় মহাসড়কের ওপর সন্দেহজনক অবস্থায় বাসটি দাঁড়ালে হাইওয়ে পুলিশ বাসটিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি জানতে পারে। টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমীন জানান, মামলার পর তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের নামে আরও কোনো মামলা আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই নারী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে বাসচালক আলতাফ ও সহকারী রাব্বির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার পর বিচারক তাদের তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।




