আন্তর্জাতিকপ্রধান খবর

ইরানি ড্রোনে ব্রিটিশ সাইপ্রাসে আরএএফ ঘাঁটিতে আঘাত, দাবি প্রেসিডেন্টের

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোদৌলিদেস জানিয়েছেন, গত রোববার একটি ইরানি ড্রোন ব্রিটিশ আরএএফ আকরোতিরি ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। এর আগে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) স্থানীয় সময় মধ্যরাতের দিকে (২২:০০ জিএমটি) ঘাঁটিতে “সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার কথা জানায়। এমওডি জানায়, ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই এবং ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি “সীমিত”। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘাঁটিতে অবস্থানরত পরিবার-পরিজনদের বিকল্প আবাসনে সরিয়ে নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “অঞ্চলে আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং ঘাঁটি আমাদের সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।” সকালে এমওডির এক মুখপাত্র জানান, “আমাদের ঘাঁটি ও কর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছে এবং যুক্তরাজ্য ও আমাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ অব্যাহত রয়েছে।”সোভেরেইন বেস এরিয়াস প্রশাসন জানিয়েছে, আরএএফ আকরোতিরি স্টেশন থেকে “অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার”পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে পাশের আকরোতিরি গ্রাম বা অন্যান্য এলাকা খালি করার প্রয়োজন নেই; ব্যবসা ও স্থাপনাগুলো স্বাভাবিকভাবেই খোলা থাকবে।

ইইউর সমর্থন
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে তিনি হামলার বিষয়ে অবহিত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সাইপ্রাস লক্ষ্যবস্তু না হলেও আমরা আমাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।”

প্রেক্ষাপট: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত
গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক স্থাপনায় “বৃহৎ ও চলমান”হামলা শুরু করে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্থাপনাগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইসরায়েল, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি গত রোববার বলেন, ইরানের “বিচারবহির্ভূত ও নির্বিচার হামলা”মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকিতে ফেলছে। এক পৃথক ঘটনায়, কাতার থেকে পরিচালিত একটি আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান প্রতিরক্ষামূলক টহলের সময় একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে। এছাড়া ইরাকের একটি জোটঘাঁটির দিকে এগোনো আরেকটি ড্রোন ব্রিটিশ বাহিনী গুলি করে নামায়। তবে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ইরানে প্রাথমিক হামলায় অংশ নেয়নি এবং “আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে”এখনই যুক্ত হবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে “মিত্রদের সমষ্টিগত আত্মরক্ষা”এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে। বিবিসির সূত্রে জানা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!