জাতীয়প্রধান খবর

ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ৪ দিন অবজারভেশনে থাকবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্লাজমা লিকেজ এড়াতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জ্বর কমে যাওয়ার পর চার দিন গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখতে হবে। রোগীরা চলে যেতে চাইলেও যেতে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে সিকিউরিটি দিয়ে হাসপাতালের গেট বন্ধ রেখে রোগীদের অবজারভেশনে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। পৃথিবীতে এর আলাদা কোনো চিকিৎসা নেই। নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রটোকল রয়েছে। সে চিকিৎসা প্রটোকল দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে স্যালাইন। প্রয়োজনীয় স্যালাইন প্রতিটি উপজেলায় ও কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসায় কোনো কিছুর অভাব হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটা লেবেলে গিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের প্লাজমা লিকেজ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যেন সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আরও ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে তিনি গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের সামনে আর কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না। বিগত সরকারের আমলে ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা সরকারে আসার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন করে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না, এটি বন্ধ। আর বর্তমানে যেগুলোর অনুমোদন রয়েছে সেগুলো যদি যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করে, তবে তাও বন্ধ করে দেওয়া হবে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও সাপের কামড়ে কেন রোগী মারা যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষধর সাপের দংশন কিনা, তা বোঝার জন্য কিছুক্ষণ রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অনেক সময় হাসপাতালে যেতে দেরি করায় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। তাই সাপ দংশনের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অক্টোবরে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এখানে ১০ জন রোগীকে একসঙ্গে ডায়ালাইসিস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দুই বছরের মধ্যে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালু করা হবে। এ সময় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!