rockland bd

ফেনসিডিল ও টাকাসহ আটক জেলারের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন

0

ভৈরব প্রতিনিধি/বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর-
বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ফেন্সিডিল, নগদ অর্ধকোটি টাকা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক-এফডিআর সহ ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের হাতে আটক চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার (কারা তত্ত্বাবধায়ক) মো: সোহেল রানা বিশ্বাসকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভৈরব রেলওয়ে থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানিলন্ডারিং আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার জেলার রানাকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পড়িয়ে পুলিশি নিরাপত্তায় কিশোরগঞ্জ জেলখানায় পাঠানো হয়

শনিবার বেলা ৪টায় আসামী সোহেল রানাকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পড়িয়ে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে কিশোরগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অভিযুক্ত সোহেল জানান, ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় চাকুরি নেয়। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মো: জিন্নত আলী বিশ্বাস। মাতা মৃত রোকেয়া বিশ্বাস। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ময়মনসিংহ শহরের ১১৯ আরকে মিশন রোডের বাড়িটির মালিক সোহেল রানা ও তাঁর দুই বোনের নামে। মুকুল নিকেতন হাই স্কুল ও ঢাকার সরকারি সাইন্স কলেজে পড়ালেখা করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনংসিংহের ধোবাউরা উপজেলার পোড়াকান্দলিয়ায়।

২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরি পাবার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও নরসিংদী জেলা কারাগারে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলার হিসিবে দায়িত্বরত ছিলেন।

এদিকে আটক হওয়া জেলার সোহেল এঘটনাটি অন্যদিকে প্রভাবিত করতে পুলিশের উর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তার দিকে ইঙ্গিত করেন সাংবাদিকদের কাছে। তবে সে কারো নাম বলেনি। সে নিজেকে ডায়বেটিক্স ও প্রেসারের রোগী বলে দাবি করেন। সে আটকের সময় মাতাল অবস্থায় ছিল বলে অভিযুক্ত সোহেল রানা স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্ধ্যায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় আসেন। এ সময় তিনি আটকৃত জেলার সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন তথ্য পেয়েছেন বলে সূত্রে জানাগেছে। এঘটনায় আটকৃকত সোহেল রানা অসুস্থতার ভান করে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক ঢাকা নেয়ার জন্য এম্ভুলেন্স আনেন পুলিশ। পরে সে নিজে স্বাভাবিক হয়।

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল মজিদ জানিয়েছে, সে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ মাদক সেবনে লিপ্ত ছিল। বিজয় ট্রেনে তাকে ধরতে গেলে পুলিশের সাথে আচরণ খারাপ করে।

জব্দকৃত সকল টাকার সিরিয়াল নাম্বর ও চেক ও এফডিআরের নাম্বার জব্দ তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়। আটকৃকতের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ৪টায় আসামী সোহেল রানাকে কিশোরগঞ্জ জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়। মানিলন্ডারিং মামলাটি দুদক তদন্ত করবে এবং অপর মামলাটি পুলিশ রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

রেলওয়ে ঢাকা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার ওমর ফারুক জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে ভৈরব আসি। ওসি সাহেবকে মামলা রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। অভিযুক্ত আসামী টাকার বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। সোহেল রানা বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও মানিলন্ডারিং আইনে দুটি মামলা হয়েছে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে ৭ দিনে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে করে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের ওসি মো: আব্দুর মজিদের নেতৃত্বে ১২ বোতল ফেনসিডিল, নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, সোহেলের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের পৃথক ৩টি চেকের মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখায় গ/ঝ: অঈঐওঅ ঊঘঞঊজচজওঝঊ (০০১১১০০০০০০০৭) হিসাব নম্বর থেকে (সোহেল নামে) ৪০ লাখ টাকার একটি চেক, ব্র্যাক ব্যাংকের গ/ঝ: ঞঅঘণ ঊঘঞঊজচজওঝঊ (২৪০১২০০৫২২৯৫৫০০১) হিসাব নম্বর থেকে (নাম বিহীন) ২০ লাখ টাকার একটি চেক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখায় গ/ঝ: ঝ.ঞ ঊঘঞঊজচজওঝঊ (০০১১১০০০০২২৯৯) হিসাব নম্বর থেকে (সোহেল রানা নামে) ৭০ লাখ টাকার তিনটি চেক এবং মো: সোহেল রানা বিশ্বাসের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখায় এফডিআর (০২৯৯৮৪৭) নম্বরে ৫০ লাখ টাকা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখায় (এফডিআর: ০২৩০২৩৪) নম্বরে ৫০ লাখ টাকার ২টি এফডিআর, স্ত্রী হোসনে আরা পপির নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখায় (এফডিআর : ০২৯৯৮৪৬) নম্বরে ৫০ লাখ টাকা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখায় (এফডিআর: ০২৩০২৩৩) নম্বরে ৫০ লাখ টাকার ২টি এফডিআর, শ্যালক মো: রাকিবুল হাসানের নামে প্রিমিয়ার ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখায় (এফডিআর: ০২৩০২৩৫) নম্বরে ৫০ লাখ টাকার একটি এফডিআর জব্দ করে পুলিশ। জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসের কাছ থেকে জব্দকৃত ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ও এফডিআরসহ নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা সহ সর্বমোট ৪ কোটি চব্বিশ লাখ ৪৩ হাজার টাকার উৎস কি তা এখনো অজানা।

এম.আর রুবেল/আর এইচ

Comments are closed.