rockland bd

রাজধানী থেকে অপহৃত গৃহবধু ৫ দিন পর কুড়িগ্রাম থেকে উদ্ধার

0

উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ

ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি/বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম- অপহরণের ৪ দিন পর বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে ঢাকার খিলগাঁও এর এক গৃহবধুকে। অপহরণকারীরা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই গ্রামের। তারা দীর্ঘদিন দেশের ও গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় নানান অপকর্মের সহিত জড়িত।

সর্বশেষ তারা ২১ অক্টোবর রোববার বিকালে অপহরণ করে ঢাকার খিলগাঁও এর ওই গৃহবধুকে। অপহরণকারীরা অজ্ঞ্যান পার্টির সদস্য বলেও স্থানীয় ভাবে জানা যায়। তারা লুট করে নেয় নগদ টাকাসহ পরনের স্বর্ণালংকার। এব্যাপারে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দফায় দফায় উপজেলার বড়লই ও বড়ভিটায় অপহরণকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাড়িয়ে দেওয়া হয় অপহরণের শিকার গৃহবধু ও তার স্বামীকে।

বর্তমানে ওই গৃহবধুকে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই গ্রামের দেলওয়ারের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৮) ও আব্দুল জলিলের ছেলে মশিউর রহমান দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ গোড়ান, পোড়াবাড়ী খিলগাঁও এলাকায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।

এরই মধ্যে একই এলাকার মুদি দোকানদার মাহাবুব আলী শাহিনের সঙ্গে তাদের পরিচয় ঘটে। তারা নিয়মিত ভাবে ওই দোকানদারের নিকট থেকে প্রতিদিনের সওদা করতো সেখানে। সওদার সুযোগ নিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক্য গড়ে তোলে হাফিজুর রহমান। সোমবার বিকালে শাহীন তার স্ত্রী রাশিদা বেগম (৩১)কে তার নিকটস্থ বাসা থেকে টাকা নিয়ে দোকানে আসতে বললে ওৎ পেতে থাকা হাফিজুরের বন্ধু মশিউর কৌশলে তাকে বিক্সায় তুলে রুমাল নাকে দিয়ে অজ্ঞ্যান করে সন্ধায় হাফিজুরসহ রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

পরের দিন রাতে তারা তাদের গ্রামের পরিচিত আবুল হোসেনের ছেলে চায়ের দোকানদার মোঃ রফিকুলের রংপুরস্থ বাসায় আশ্রয় নেয়। বিষয়টি রফিকুলের সন্দেহ হলে কৌশলে সেখান থেকে তারা সটকে পড়ে। ্এরই মধ্যে অপহরণকারী হাফিজুর ও মশিউর একটি মোবাইল ফোন থেকে শাহীনকে জানায় তার স্ত্রী রাশিদা তাদের কাছে আছে।

এসময় তারা দশ হাজার টাকার চাঁদা দাবি করে। পরবর্তিতে বুধবার রাশিদাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় এবং শাহীনকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে অপহরণকারীরা জানায় রংপুরে আছে তোমার স্ত্রী। ০১৭৭০৮৮১৯০৬ নম্বরে যোগাযোগ করলে তাকে পাবে। সে মোতাবেক শাহীন রংপুরে এসে অসুস্থ স্ত্রীকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই গ্রামে এসে তাদের লুট করে নেওয়া নগদ ৫৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করতে না পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধায় ঢাকায় রওনা দেয়। এ ব্যাপারে শাহীন ঢাকার খিলগাঁও থানায় ১৫১২ নম্বরে ও ১৬৪৮ নম্বরে পরপর দু’টি সাধারণ ডায়রি করেন।

অপহরণর শিকার অসুস্থ রাশিদা যুগান্তরকে জানান,তাকে কি খাওয়ানো হয়েছে তিনি জানেন না। তবে হাফিজুর ও মশিউরকে চেনেন। তারা তাকে এ অবস্থায় ফেলেছে। গৃহবধুর স্বামী মাহাবুব আলী শাহীন মোবাইলে জানান, তার স্ত্রী এখন খুবাই অসুস্থ। ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ৮ম তলার ১২নং বেডে চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ডায়েরি করেছি। একটু সুস্থ হলেই থানায় যাবো।

চায়ের দোকানদার রফিকুল ইসলাম অপহরণকারীদের আইনের আওতায় এনে মোবাইল ফোনে জানান, তারা সমাজের ও জাতির শত্রু অবশ্যই তাদেক গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বড়ভিটা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বাতেন বসুনিয়া উপযুক্ত বিচারের দাবি করে জানান, আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং আমাকে ওই গৃহবধুকে উদ্ধারের জন্য পাঠিয়েছেন। সময় মত আমি না আসলে তার অনেক ক্ষতি করতো নরপশুর দল।

আব্দুল আজিজ/আর বি

Comments are closed.