rockland bd

রাস্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার পরও ৯ বছর ধরে কারাগারে

0

মিঠু আহমেদ, জামালপুর/বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম
জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার পাখিমারা গ্রামের আজমত আলী জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন। যাবজ্জীবন সাজা থেকে মুক্তি পেলেও আইনি জটিলতায় ফের নয় বছর ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁর মুক্তির জন্য দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা এ দপ্তর থেকে ওই দপ্তরে ছুঁটে বেড়াচ্ছেন অবিরত। কোথাও এই আইনের জট খুলছে না।

১৯৮৭ সালের আজমত আলীর প্রতিবেশী কলিম উদ্দিন সরকারের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি মারামারি হয়। ওই ঘটনায় কলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম মারা যান। ঘটনার দিন আজমত আলী এলাকায় ছিলেননা। পরে ১৯৮৭ সালের ৭ জুন কলিম উদ্দিন বাদি হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় আজমত আলীকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

১৯৮৯ সালে জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে আজমত আলীর যাবজ্জীবন সাজা হয়। এরপর থেকে তিনি সাজা ভোগ করছিলেন। রাস্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তিনি ১৯৯৬ সালে জামালপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। তারপর বাদী পক্ষ রাস্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি গোপন রেখে হাই কোর্টে একটি লীপ-টু আপিল করেন। লীপ-টু আপিলের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে সুপ্রিমকোর্ট আসামীকে নিন্ম আদালতে হাজির হওয়ার নিদের্শ দেন। পরে ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর আজমত আলীকে পুলিশ ফের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এরপর থেকে তিনি এখনও জেল হাজতে রয়েছেন।

আজমত আলীর বড় মেয়ে বিউটি খাতুন বলেন,‘ তাঁর বাবা ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সাজা খেটে জামালপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৩ বছর পর ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর হঠাৎ পুলিশ তাঁকে আবার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমার বাবা কারাগারে রয়েছেন। তাঁকে মুক্ত করতে গত ৯ বছর ধরে এই বিবিন্ন আদালতে ঘোরাফেরা করে হাই কোর্ট পর্যন্ত গিয়েও তাঁকে মুক্ত করতে পারছি না।’

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি নির্ম্মল কান্তি ভদ্র বলেন,‘আসামি পক্ষের গাফেলতি ও যোগাযোগ না করায় বিষয়টি সবার অগোচরে রয়ে যায়। গত কয়েক মাস আগে আসামি পক্ষের একজন আইনজীবি বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করলে আমি বিষয়টির বিরোধীতা না করে বরং সহযোগিতা করেছি।’

জামালপুরের জেল সুপার মো.মখলেছুর রহমান বলেন, আজমত আলী নামের একজন কয়েদী এই কারাগারে বন্দি রয়েছে।

আজমত আলীর স্ত্রী জবেদা বেগম (৫৫) বলেন, বাবা কি আর আমি বলবো র্কোটের বরান্দায় ঘুরতে ঘুরতে আজ আমি ক্লান্ত। সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্ট করে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে কোন রকম তাদের মানুষ করেছি। আজ আমরা অনেক মানবেতর জীবন যাপন করছি। এমন ঝড় যেন আর কারো কপালে না আসে। আমি চাই সরকার যেন দয়া করে আমার স্বামীকে মুক্তি প্রদান করেন।

মিঠু আহমেদ/আর এইচ

Comments are closed.