rockland bd

অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশের আলোচনা

0

জাতীয়, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম


ভারত ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডাব্লিউটিটি) চুক্তির অধীনে বুধবার (২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৯তম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। ভারতীয় প্রতিনিধি দলে নৌ পরিবহন, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও ছিলেন ডোনার এবং ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (আইডাব্লিউএআই) কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা, ডিজি (শিপিং) এবং বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা।

প্রটোকল রুটে রূপনারায়ন নদীর জিওনখালি থেকে পশ্চিমবঙ্গের কোলাঘাট পর্যন্ত অংশকে সংযুক্ত করার ব্যাপার উভয় পক্ষ সম্মত হয়। তারা পশ্চিম বঙ্গের কোলাঘাট এবং বাংলাদেশের চিলমারিকে নতুন ‘পোর্টস অব কল’ ঘোষণা করেন। নতুন চুক্তির ফলে ভারত থেকে বাংলাদেশে সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন আরও সহজ হবে। এছাড়া, বরাক নদীর বদরপুরকে আসামের করিমগঞ্জ এবং আশুগঞ্জের ঘোড়াশালের বর্ধিত পোর্ট অব কল ঘোষণার ব্যাপারেও তারা সম্মত হয়েছেন। ভারতীয় পক্ষ প্রটোকল রুটকে কলকাতা থেকে আসামের শিলচর পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠকে এছাড়াও ইনল্যান্ড প্রটোকল রুট এবং উপকূলীয় নৌ রুট দিয়ে যাত্রী ও যান চলাচলের ব্যাপারে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চূড়ান্ত করা হয়েছে। কলকাতা-ঢাকা এবং গোয়াহাটি-জোরহাটের মধ্যে এই রিভার ক্রুজ সার্ভিস চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি ঢুলিয়ান-রাজশাহী প্রটোকল রুটকে আরিচা পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং ভাগিরথি নদীর জঙ্গিপুরের নৌ বন্ধ্যাত্ব কাটানোর জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে ফারাক্কায় গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে যে চুক্তি হয়, সেখানেও এ বিষয়টি ছিল। এই প্রটোকল রুট চালু হলে আসামের সাথে দূরত্ব ৪৫০ কিলোমিটার কমে যাবে।

আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ইন্দো-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ইন বাংলাদেশ’র আশুগঞ্জ-জাকিগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ-দইখাওয়া অংশের ড্রেজিংয়ের কাজের তত্ত্বাবধান এবং নজরদারির জন্য গঠিত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট ৮০% ভারতের অর্থায়নে এবং বাকিটা বাংলাদেশের অর্থায়নের প্রেক্ষিতে কাজ করবে। সার্বিক ড্রেজিংয়ের কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের নৌ পরিবহন সচিব পর্যায়ের বৈঠকের কথা। এই বৈঠকে ভারত থেকে পণ্য পরিবহনের ব্যাপারে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের ব্যবহার, অ্যাডেনডাম টু পিআইডাব্লিউটিটি, যাত্রী ও যান চলাচলের ব্যাপারে স্ট্যান্ডার্ন্ড অপারেটিং প্রসিডিউর নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

আর এইচ

Comments are closed.