rockland bd

স্থুলতা সহজেই নিরাময় ও প্রতিরোধ যোগ্য

0

নিজস্ব প্রতিবেদক । বাংলাটুডে২৪ রিপোর্ট :
কিছু দদিন আগেও আমার শরিরের ওজন ছিল ১৩৫ কেজি। দীর্ঘ ১৫ বছর থেকে আমি ব্যাংককে এর চিকিৎসা নিচ্ছি। শুধু তাই নয়, সেখানের চিকিৎসা ঠিক আছে কিনা, তা ক্রস চেক করাতাম সিঙ্গাপুরে। পরে দেখা গেল আমার হার্টে ২ টি ব্লক রয়েছে। এর পর হার্টের চিকিৎসা নিয়ে ওজন কমানো আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আমি হাল ছেড়ে দিয়ে ছিলাম!
পরে আমার এক বন্ধু ড. সারফরাজের কথা বললো, তখন আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। তার একবার মনে হলো গিয়েই দেখি। ডা. এর কথায় আমি আসস্থ্য হয়। বিলিভ ইট অর নট আমার ওজন কমে গিয়ে এখন ৮০ কেজিতে। আসলেই তিনি অনন্য।
এভাবেই নিজের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মচঞ্চল জীবনের গল্প শোনালেন দেশ টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান।
শুক্রবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে কলকাতার বেলভ্যূ হাসপাতালের বিখ্যাত বেরিয়্যাটিক সার্জন ডা. সারফরাজ জলিল বেগ-এর চিকিৎসা সেবা পেয়ে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন- এ ধরনের বেশ কয়েকজন রোগী সমবেত হয়েছিলেন চিকিৎসক দম্পতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে। শুধু আরিফ নয় সবার কণ্ঠেই ছিল এমন কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
রূপেন আজিজ বলেন, এই ধরনের অপারেশনের আগে পরিবারে কারও সঙ্গে কোন আলাপ করি নি। পরবর্তীতে সবাই সরপ্রাইজ হয়েছে। আমাকে এপ্রিসিয়েট করেছে।
আমি এই অপারেশন করিয়েছি তিন বছর আগে। তখন আমার ওজন ছিল ১৪০ কেজি। কোন কাজ করতে পারতাম না, রাতে ঘোমাতে কষ্ট হতো। এখন জীবন বদলে গেছে।
হাবিব নামের ১৭ বছর বয়সী এক ছেলে বলছিল, আমি কোন কাজ করতে পারতাম না। স্কুলের ক্লাস রুম ছিল ৭ তলায়। আমার ক্লাসে উঠতে অনেক সময় পার হয়ে যেত। কিন্তু বেরিয়্যাট্রিক সার্জারির মাধ্যমে ৯৮ দিনের মধ্যে আমার ওজন প্রায় ৩৫ কেজি কমে নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় আমি স্থুলজীবনের দূর্বিসহ অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।
ডা. সরফরাজ জনান, স্থুলতা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। ধনী রাষ্ট্রগুলোতে এমনিতেই এই সমস্যা প্রকট; এমনকি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোও বর্তমানে এই সমস্যা এড়াতে পারছে না। বাংলাদেশের একটি বড় অংশ যেমন পুষ্টিহীনতার শিকার আবার অরেকটি অংশ রয়েছেন যারা অতিরিক্ত ক্যালরীগ্রহণ এবং জীবনধারার কারণে স্থুলতার শিকার। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ১৯৮০ থেকে ২০১৩ সালের ব্যবধানে বাংলাদেশে স্থ‚লতার হার দ্বিগুণের বেশী বেড়ে গেছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠির মধ্যেও স্থুলতা, ডায়বেটিক ও হৃদরোগের হার আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। ফাস্টফুড সংস্কৃতি, ভিডিও গেমস, মোবাইল এবং কম্পিউটার ব্যবস্থার ফলে আমাদের কোমলমতি শিশুদের মাঝেও স্থুলতার প্রবণতা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে।
ডা. সরফরাজ আরো জানান, যারা অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন করছেন এবং চেষ্টা করেও স্থুলতা নিয়ন্ত্রিত করতে পারছেন না; তাদের জন্য একমাত্র বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হচ্ছে পুষ্টি ও জীবনধারার পরিবর্তন এবং বেরিয়্যাট্রিক সার্জারি। বেরিয়্যাট্রিক সার্জারি তীব্র স্থুলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ, বন্ধ্যাত্ব, বাত, নিদ্রাহীনতা, হারনেস ইত্যাদিজনীত অসুস্থতার চিকিৎসায় কার্যকর হিসাবে প্রমানীত হয়েছে। বাংলাদেশসহ উন্নত বিশ্বে শতভাগ সাফল্যের সঙ্গে বেরিয়্যাট্রিক সার্জারির মাধ্যমে স্থুল মানুষরা স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরে এসেছে।

এমএ/বাংলাটুডে২৪ডটকম

Comments are closed.