rockland bd

সাইনবোর্ড লাকড়ী কারখানার, তৈরি হয় ভেজাল গুড়ো মসলা

0

ভৈরব প্রতিনিধি-


বন্দরনগরী হিসেবে পরিচিত ভৈরব বাজারটি প্রচীনকাল থেকেই ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু ও যোগাযোগের সহজ ক্ষেত্র হওয়ায় পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার মানুষ ভৈরব কেন্দ্রীক ব্যবসা বাণিজ্য শুরু হয় বহু আগে থেকেই। নদীর পাড় এলাকায় আগে দেখা যেত চাল ও ধানের আড়ৎ ব্যবসা।

এখন এ ব্যবসা আগের মত জমজমাট নেই। তবে ভৈরব বাজারের নদীর পাড়সহ অন্যান্য গলিতে অন্তত ২০টিরও বেশি মসলার কারখানা রয়েছে। ওইসব কারখানার বেশিরভাগেই তৈরি হয় গুড়ো ভেজাল মসলা। কৌশলগত কারণে ওইসব মসলার কারখানার সামনে কোন প্রকার সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়না। কে মালিক সেটাও থাকে অনেকটায় অস্পষ্ট। কয়েকজন কর্মচারী দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল মসলা তৈরির মত জঘন্য অপকর্ম করে যাচ্ছে কথিপয় অসাধু মালিক।

ভৈরব বাজারের লালপুর নৌকাঘাট এলাকায় একটি ভেজাল মসলা কারখানায় সোমবার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের ও ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক চন্দন নাথের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি টিম অভিযান চালিয়ে কারখানায় উৎপাদিত ৩২’শ কেজি (মরিচ, হলুদ, ধনিয়া) ভেজাল মসলাসহ মজুদকৃত নিম্নমানের মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, ক্ষতিকারক রং, কাঠের গুড়া, ইটের গুড়া, পাথরের গুড়া, বালি, ভুসি জব্দ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই কারখানার সামনে কোন সাইনবোর্ড নেই। পাশের অফিস রুমের সামনে মেসার্স মাহিয়া লাকড়ীর কারখানা নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো রয়েছে। ওই অফিসের চারিদিকে কয়েকটি ঘরে মজুদ রয়েছে মসলায় মিশানোর জন্য রাখা বিভিন্ন ভেজাল দ্রবাদির স্তুপ। লাকড়ীর কারখানার ভিতর দিয়েই যেতে হয় গোপন ওই ভেজাল মসলার কারখানায়।

মেসার্স মাহিয়া লাকড়ীর কারখানার মালিকের নাম আবুল হাসেম। বাড়ি শহরের পঞ্চবটী গ্রামে। এই অফিস থেকেই তার ছেলে আবু আনসারী রনি ভেজাল মসলার কারখানার পরিচালনা করেন। লাকড়ীর কারখানার ওই সাইনবোর্ডের অন্তরালে মুলত ভেজাল মসলা উৎপাদন করাই তাদের উদ্দেশ্যে। পরিচালক (মালিক) রনির সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন দেলোয়ার নামে এক যুবক। তারা দুজনই র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন। ঘটনাস্থলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারও করেছেন তারা যেভাবে ভেজাল মসলা উৎপাদন করেন, সেই অপকর্মের কথা।

ভেজাল কারখানায় অভিযানের বিষয়টি ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কাজী ফয়সালকে ঘটনাস্থলে থেকেই অবগত করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রিট মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল ঘটনাস্থলে এসে কারখানা ঘুরে দেখেন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৩ ধারায় কারখানা মালিক (পরিচালক) আবু আনসারী রনিকে ১ বছরের এবং সহযোগী দেলোয়ার হোসেনকে ১০ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন।

র‌্যাবের অভিযানে জব্দ হওয়া ভেজাল ও নিন্মমানের মালামাল ধ্বংস করা হবে কিনা ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নিার্বহী অফিসার মোহাম্মদ কাজী ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে জব্দকৃত মালামাল ধ্বংস করা হবেনা। আগামী সপ্তাহে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রিটের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

উল্লেখ্য, র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্প কর্তৃক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময় ভৈরব বাজারের একাধিক ভেজাল মসলা কারখানা থেকে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক নিম্নমানের মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, ক্ষতিকারক রং, কাঠের গুড়া, ইটের গুড়া, পাথরের গুড়া, বালি, ভুসি, কয়লা জব্দ করে ধ্বংস করেন। ওই সব অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভৈরবের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা মোটা অংকের আর্থিক জরিমানা ও কারাদন্ড প্রদান করেছেন দোষীদের।

র‌্যাবের পাশাপাশি তৎকালীন ইউএনওরাও একাধিকবার বিভিন্ন ভেজাল মসলার কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা ও দীর্ঘ মেয়াদী জেল দিয়েছেন। এর মধ্যেই অনেকেই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ভেজাল মসলা তৈরির মত এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

র‌্যাবের এ অভিযানকে ভৈরববাসী স্বাগত জানালেও, স্থানীয় প্রশাসনের কথিপয় লোকজনের সাথেও এসব অপকর্মের হোতা ভেজাল মসলা কারখানার মালিকগণের সখ্যতা গড়ে উঠায় অনেক ক্ষেত্রেই পার পেয়ে যায় খাদ্যে ভেজালকারীরা। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রসাশন নজর দিবেন এমনটাই দাবি সচেতন মানুষদের।

বাংলাটুডে২৪/এম.আর রুবেল/আর এইচ

Comments are closed.