rockland bd

মুন সিনেমা হলের মালিককে শত কোটি টাকা দেয়ার নির্দেশ

0

নিজেস্ব প্রতিবেদক-


পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায় এসেছিল আট বছর আগে। সেই রায়ের আলোকে সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে সাত বছর আগে। তবে সর্বোচ্চ আদালত থেকে চূড়ান্ত রায়ের পর এখনও সেই সিনেমা হলের মালিক মূল্য বুঝে পাননি। সম্পত্তির মূল্য হিসেবে সরকার থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মুন সিনেমা হলের মালিক ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য তিন মাস সময় চাওয়া হলে আদালত আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রেখেছেন।
শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মুন সিনেমা হলের মালিককে ১০০ কোটি টাকা দিতে সম্মত হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এর পরই সুপি্রম কোর্ট আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ওই ১০০ কোটি টাকা দেয়ার নির্দেশ দেয়।
গত ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টকে মুন সিনেমা হলের মালিককে ৯৯ কোটি টাকা ক্ষতি পূরণের নির্দেশ দেয়।
২০১১ সালের মে-তে হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে বেআইনী উল্লেখ করে তিন মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে মুন সিনেমা হলের মালিকের কাছে সম্পত্তি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়।
পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে অবস্থিত মুন সিনেমা হলটি মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। অন্য সামরিক ফরমানগুলোর মতো এটিও সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয়।
ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে ইতালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম ২০০০ সালে হাইকোর্টে ওই ফরমানসহ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করেন। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট এক রায়ে পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সম্পত্তির মালিকানা ইতালিয়ান মার্বেলকে ফিরিয়ে দিতে বলেন।
২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে ইতালিয়ান মার্বেলকে মুন সিনেমা হল ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই রায়ের আলোকে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করা হয়। অথচ মুন সিনেমা হলের মালিককে নির্ধারিত সময়ে ওই সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। পরে সম্পত্তি ফিরে পেতে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই সম্পত্তি অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ এক প্রকৌশলীকে দিয়ে জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

বাংলাটুডে২৪/এবিএস

Comments are closed.