rockland bd

দেওয়ানগঞ্জে প্রকাশ্যে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হলেন হত্যা মামলার আসামি আ’লীগ নেতা, পুলিশের খাতায় পলাতক

0

জামালপুর প্রতিনিধি-


বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাকিরুজ্জামান রাখাল প্রকাশ্যেই পুলিশের সামনেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।


দেওয়ানগঞ্জের বহুল আলোচিত চার হত্যা মামলার প্রধান আসামী বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাকিরুজ্জামান রাখাল গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পুলিশের খাতায় পলাতক রয়েছেন। অথচ দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে গণসংযোগ শেষে তিনি গতকাল বুধবার অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিদিন গনসংযোগ করেন শাকিরুজ্জামান রাখাল। গতকাল বুধবার দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রকাশ্যে ঘুরে ফিরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও পুলিশের খাতায় বরাবরই তিনি পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তার ক্যাডার বাহিনীর হুমকির মুখে বিএনপিসহ অন্য ৩ প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী নির্বাচনের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নেতা শাকিরুজ্জামান রাখাল নৌকা প্রতীক নিয়ে স্থগিত হওয়া ৩ কেন্দ্রে ২৩২১ ভোটসহ মোট ৭১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আল আমীন মোট ৪৪৬৬ ভোট পেয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানায়, ২০১৬ সালের ২৮ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে শাকিরুজ্জামান রাখাল, ধানের শীষ প্রতীকে সৈইমুদ্দিন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকে আল আমিন ও ঘোড়া প্রতীক নিয়ে শাহজাহান আলী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হন।

ওই নির্বাচনে কান্দিরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খুটারচর এবতেদায়ী মাদ্রাসা কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতা হয়। ফলে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র দু’টির ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, শাকিরুজ্জামান রাখাল নিজের স্বার্থে তদবির করে স্থগিত দুই কেন্দ্র থেকে ১৯০৫টি ভোট কেটে এনে তার বাড়ির কাছে পুল্লাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন কেন্দ্র স্থাপন করে। গতকাল নতুন কেন্দ্রসহ সাবেক দুই কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান, বিএনপি প্রার্থী সৈমুদ্দিন ও অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আল আমীন অভিযোগ করে বলেন, শাকিরুজ্জামান রাখাল তার ক্যাডারবাহিনী নিয়ে ওই দুই কেন্দ্রে গুলি বর্ষণসহ ব্যাপক সহিংসতা চালায়। এ সময় খুটারচর এবতেদায়ী মাদ্রাসা কেন্দ্রে নিহত হন শেখ পাড়া গ্রামের স্কুল ছাত্র মাজেদ (১৮), কুতুবের চরের জিয়াউল হক (৩২)। একই গ্রামের নুরুল ইসলাম (৫০) ও কান্দির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খুন হন নূর ইসলাম (৫৫)।

আলোচিত এ ফোর মার্ডারের ঘটনায় মোট ৫টি মামলা দায়ের হয়। তার মধ্যে কুতুবের চর গ্রামের আলমগীর ও কান্দিরচর গ্রামের নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে শাকিরুজ্জামান রাখালসহ শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই দু’টি মামলাসহ খুটারচর এবতেদায়ী মাদরাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আসাদুজ্জামানের দায়ের করা একটিসহ মোট ৫ মামলা একসঙ্গে তদন্ত করছেন দেওয়ানগঞ্জ থানার এসআই রাজীব চন্দ্র সরকার ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান, বিএনপি প্রার্থী সৈমুদ্দিন ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আল আমীন অভিযোগ করে বলেন, ফোর মার্ডার ও মামলার পর থেকে চার হত্যা মামলার প্রধান আসামী আওয়ামীলীগ নেতা শাকিরুজ্জামান রাখাল গত দুইবছরের বেশি সময় ধরে প্রকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বপালন করছেন, যোগ দিচ্ছেন সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা অনুষ্ঠানে কিন্তু পুলিশের চোখে তিনি রয়েছেন বরাবরই পলাতক। তাকে গ্রেফতার করেনি।

এমনকি ওই নেতা আইনের প্রতি কোন প্রকার শ্রদ্ধা না দেখিয়ে আদালত থেকে জামিন না নিয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণাসহ গতকাল নির্বাচনে অংশ নেন। তার ক্যাডারদের হুমকির মুখে তারা নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।

এ ব্যাপারে দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম নিজের অসহাত্বের কথা জানিয়ে বলেন, শাকিরুজ্জামান রাখাল হত্যা মামলার আসামী কিন্তু তিনি নির্বাচনী কেন্দ্রে আমার চোখের সামনে পড়েনি। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, শাকিরুজ্জামান রাখাল যে এখনও জামিন নেননি তা তিনি জানতেন না।

তবে অন্তত নির্বাচনে অংশ গ্রহণের আগে আদালত থেকে তার জামিন নেয়া উচিত ছিল। পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন পিপিএম বলেন দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিষয়টি তাকে আগে অবহিত করেনি। তাহলে আরও আগেই ওই আসামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেন। তবে এ ব্যাপারে খুব শীঘ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাটুডে২৪/মিঠু আহমেদ/আর এইচ

Comments are closed.