rockland bd

সিলেটে প্রকাশ্যে কলেজছাত্রীকে কোপালো ছাত্রলীগ নেতা

0

বাংলাটুডে২৪ ডেস্ক :
সিলেটের এমসি কলেজে পরীক্ষা দিতে এসে সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করেছে এক ছাত্রলীগ নেতা। মেয়েটির নাম খাদিজা আক্তার নার্গিস।
সোমবার বিকেলে এমসি কলেজ মসজিদের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে এবং হামলাকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করেছে। আহত ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের দু’জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সিলেটে কলেজছাত্রীকে কুপিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা
আহত খাদিজা আক্তার নার্গিসকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাউসা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে খাদিজা আক্তার নার্গিসের বাড়িতে লজিং থাকত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম। সেখানে থাকাকালে মেয়েটির কাছে প্রেম নিবেদন করে সে। নার্গিস বারবার প্রত্যাখ্যান করে। বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর এমসি কলেজ মসজিদের পেছনে মানুষের সামনে দা দিয়ে কোপাতে থাকে বদরুল। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন নার্গিসের চিৎকার শুনে এগিয়ে যায়। তারা নার্গিসকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে এবং বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়।
এ ব্যাপারে এমসি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সালেহ আহমদ বলেন, ‘কিছু ছাত্র এসে একটি মেয়েকে কুপিয়ে দুই টুকরো করে ফেলেছে বলে আমাদের জানায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে হামলাকারী যুবককে জনতার কবল থেকে উদ্ধার করে। আমরা ওই মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাই।’
প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান কবির বলেন, ‘একটি মেয়েকে কোপাতে দেখে এগিয়ে যাই। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্যের সহায়তায় আমরা মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎকরা বলেছেন, তার রক্তের প্রয়োজন। আমরা কিছু রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।’
এদিকে এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খাদিজার ওপর হামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (উত্তর) জিদান আল মুসা। তিনি জানান, জনতার সহায়তায় হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষসহ সবাই চেষ্টা করছেন।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, মেয়েটির অবস্থা সংকটাপন্ন। অধিক রক্তক্ষরণ হয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর জখম হয়েছে মাথায়।

Comments are closed.