rockland bd

অবসরের সুযোগ পেলে খুশি হব; পাক-ভারত যুদ্ধ কাম্য নয়: শেখ হাসিনা

0

বাংলাটুডে২৪ ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নতুন নেতা বেছে নিলে এবং তিনি অবসরে যাওয়ার সুযোগ পেলে ‘সবচেয়ে বেশি’ খুশি হবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরের অভিজ্ঞতা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অন্যদিকে ভারত-পাকিস্তানের অবস্থান সত্যিই খুব উদ্বেগজনক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ অঞ্চলে কোনো রকম সংঘাত ও যুদ্ধ আমাদের কাম্য নয়।’ তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে উত্তেজনা চলছে তা তাদের অভ্যান্তরীন ব্যাপার। দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক ব্যাপার নিজেরা বসে সমাধান করা দরকার। এ অঞ্চলে কোনো ধরণের সংঘাত কাম্য না। প্রতিবেশী কোনো দেশে উত্তেজনা হলে আমাদের উন্নয়নের ওপরে প্রভাব পড়ে।
আসছে ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা কীভাবে দলের সংস্কার করতে চান- সেই প্রশ্ন রাখেন সমকাল সম্পাদক।
উত্তরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই সব হবে।
“আমার তো ৩৫ বছর হয়ে গেছে। আমাকে যদি রিটায়ার করার সুযোগ দেয় তাহলে আমি সব থেকে বেশি খুশি হব।”
১৭ দিনব্যাপী যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ব্যস্ত সফরের পর ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে দেশে ফেরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমি বাংলায় বক্তব্য দেই। বক্তৃতায় অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যুটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ করি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী, মদতদাতা, পৃষ্ঠপোষক, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।
কানাডা সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলনের ফাঁকে জাস্টিন ট্রুডোর সাথে বৈঠক করি। বৈঠকে ট্রুডো দু’দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুসংহত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসাথে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থানেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। তিনি এ নিয়ে সেদেশের আইনি বাধার কথা উল্লেখ করেন। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিতপূর্বক কিভাবে স্পর্শকাতর ইস্যুটির সুরাহা করা যায়, তার উপায় খুঁজতে দু’দেশের উপযুক্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরুর পক্ষে মত দেন।
সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান যেহেতু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে মন্তব্য করেছে, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যাব না। দেখা যাচ্ছে অন্য আরো চারটি দেশ একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাতটি দেশের মধ্যে চারটিই যদি না যায়, তাহলে তিনটি থাকলে কি সম্মেলন হবে? ফলে সার্কের বর্তমান সভাপতি রাষ্ট্র নেপাল বাধ্য হয়েছে সম্মেলন বন্ধ করতে।
নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির অংশ গ্রহণ প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি তাদের সময় কি ধরণের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে তা সবাই দেখেছে। তারা এক কোটি ৩০ লাখের মতো ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা করেছিল। মাগুরা, মিরপুরে উপনির্বাচন কিভাবে করেছে সেটাও সবার জানা। সুতরাং তারা নির্বাচন কমিশন গঠন করলে কেমন হবে সেটা সবাই জানে।

Comments are closed.