rockland bd

নাটকীয় ফাইনালে শেষ বলে ভারত চ্যাম্পিয়ন

0

খেলা, ডেস্ক প্রতিবেদন-


-বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে ২২২/১০
-ভারত ৫০ ওভারে ২২৩/৭
-ভারত ৩ উইকেটে জয়ী

আরো একটি ফাইনাল হারের আক্ষেপ নিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়লেন মাহমুদুল্লাহ। ছবি: ক্রিকবাজ


শেষ বলেই নির্ধারিত হল এশিয়া কাপ ফাইনালের রূপকথা। জয়ের পাল্লা কখনো ভারতের দিকে ঝুকছে তো কখনো বাংলাদেশের দিকে। এভাবেই চলতে চলতে ভাগ্যে শেষ হাসিটা যেন ভারতের জন্যই বরাদ্দ ছিলো। ৩ উইকেটে রুদ্ধশ্বাস এক জয় পেল ভারত। অধরাই রয়ে গেল বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের আশা। আসলে বাংলাদেশের ফাইনাল ভাগ্যটাই হয়তো খারাপ। তা না হলে প্রতিবারই এমন হবে কেন? না কি ফাইনাল জেতার সামর্থ্যই নেই বাংলাদেশের? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে!

তবে টাইগার সমর্থকরা এটা ভেবে সান্তনা পেতে পারেন যে, হারলেও ভারতকে সহজে ছেড়ে দেয়নি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত খেলা জমিয়ে রাখে বোলাররা। আক্ষেপ থাকবে, হয়তো আরো কিছু রান করা গেলে ম্যাচটির ফলাফল ভিন্ন হতো।  এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো ভারত এশিয়া কাপ জিতল, তৃতীয়বারের মতো রানার্স আপ বাংলাদেশ।

ওপেনিং জুটিতে ১২০ রানের পর ২২২ রানে অল আউট মেনে নেয়া কষ্টের। সবাই যেন উইকেট বিলিয়ে দেয়ার প্রতিযোগিতা করছিলেন। এর মধ্যে আবার আম্পায়ারের বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্ত যেন কাাটা ঘায়ে নুনের ছিটা।

এক ইনিংসে তিন-তিনটা রান আউট আর দুটি স্টাম্পিং বলে দিচ্ছে সিদ্ধান্ত নিতে একের পর এক ভুল করেছেন ব্যাটসম্যানরা। মিডল অর্ডারের দুই প্রধান ভরসা মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন।

আম্পায়ার না হয় একটি ভুল করেছেন, কিন্তু বাকিরা তো নিজেরাই ভুল খেলে এসেছেন।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ১২০ রানের জুটি গড়েন লিটন দাস ও মেহেদি মিরাজ। আজকের দিনের ওপেনিং জুটিতে এটি ছিলো একটি চমক।
ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত ওপেনিং করতে নেমে ৫৯ বলে ৩২ করে কেদার যাবদকে উইকেট দিয়েছেন মিরাজ। লিটন দাস ১১৭ বলে করেছেন ১২১ রান করেন। যাতে ছিলো ১২টি চার ও ২টি ছক্কার মার।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি ছিলো তাদের। ২০১৪ এশিয়া কাপে এনামুল হক ও ইমরুল কায়েসের জুটি তুলেছিল ১৫০ রান।

দারুণ শুরুর পর বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে। ৩১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মিরাজ ছাড়াও ফিরেছেন ইমরুল (২), মুশফিক (৫), মিঠুন (২) ও মাহমুদউল্লাহ (৪)। এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।

ভারতের পক্ষে দুটি উইকেট নেন কেদার যাদব। তিনি বোলিংয়ে আসার পরই ম্যাচে ফেরে ভারত। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে লিটন দাস আউট হলে লড়াই করার মতো পুঁজির সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। লিটনের আউটটি নিয়ে অবশ্য এরই মধ্যে বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশের সমর্থকেরা। ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সফলতম বোলার অবশ্য কুলদীপ যাদব।

২২৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ভারতের প্রথম উইকেট পড়ে পঞ্চম ওভারে। বোলিংয়ে এসেই শিখর ধাওয়ানকে ফেরান নাজমুল ইসলাম অপু। সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন শিখর ধাওয়ান। ১৪ বল খেলে ১৫ রান করেন তিনি। ইনিংসের অষ্টম ওভারে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আম্বাতি রায়ডুকে ফিরিয়ে দেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে রুবেল হোসেনের বলে নাজমুল ইসলাম অপুর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন রোহিত শর্মা। তিনি করেছেন ৪৮ রান। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ স্বস্তির ব্রেক থ্রু এনে দেন। ৩১তম ওভারে দিনেশ কার্তিককে এলডিব্লিউয়ের ফাঁদে ফেললেন তিনি। কার্তিক করেছেন ৩৭ রান।

৩৭তম ওভারে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ফিরিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেন মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তাফিজের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ধোনি। তিনি করেছেন ৩৬ রান। এর পরপরই কেদার যাদব চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। চাপে পড়ে ভারত।
খেলা জমে উঠে ৪৮ তম ওভারে রুবেলের বলে রবিন্দ্র জাদেজা ফিরে গেলে। তিনি ৩৩ বলে ২৩ রান করে বেশ এগিয়ে নিয়ে যান ভারতকে।

৪৯ তম ওভারের প্রথম বলেই ভুবেনশ্বর কুমারকে আউট করেন মোস্তাফিজ। তখন ভারতের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২১৪। প্রয়োজন ছিলো ১১ বলে ৮ রানের। মোস্তাফিজের ওভার শেষে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন পড়ে ৬ বলে ৬ রানের। শেষ ওভারটি প্রথমে সৈম্য সরকারকে করতে দেয়া হলেও সদ্ধান্ত বদল করেন অধিনায়ক। বল তুলে দেন মাহমুদুল্লাহ’র হাতে।

প্রথম তিন বলে এল চার রান। চতুর্থ বলে ডটের পর পঞ্চম বলে ১ রান। শেষ বলের উত্তেজনায় গিয়ে ঠেকলো ম্যাচের ভাগ্য। কী হয়, কী হয়! কিন্তু মাহমুদউল্লাহ বলটা ফেললেন লেগ স্টাম্পে। পায়ের ক্রাম্প নিয়েও ফেরত আসার যাদবের সে বল পেছনে ঠেলে দিয়ে সহজেই নিয়ে নিলেন শেষ রান। আরেকটি ফাইনাল শেষে আক্ষেপের গল্প লিখেই শেষ করল বাংলাদেশ।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.